কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে এবার শিক্ষককে পেটালেন বিএনপি নেতা

কুড়িগ্রাম, ২২ জানুয়ারি – সন্তানের ভর্তি বাতিলের জেরে কুড়িগ্রাম জেলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল হাই সিদ্দিকীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।

রোববার দুপুরে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বৃহস্পতিবার একই জেলার রৌমারীতে প্রধান শিক্ষককে মারধর করেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। পরে অভিযুক্ত নেতাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে পৃথক দুটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী দুই শিক্ষক।

জানা গেছে, রোববার শিক্ষক আব্দুল হাই সিদ্দিকীকে মারধরের ঘটনায় জেলা বিএনপির সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাকে প্রধান আসামি করে আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন- রুমন মিয়া, আমিনুর রহমান ও বিদ্যুৎ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভর্তিসংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত নিতে এসে একপর্যায়ে কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকীর ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারপিট করেন কুড়িগ্রাম বিএনপি নেতা মাসুদ রানা। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। সিসিটিভির ক্যামেরায় ধারণ করা এ দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

মারধরের শিকার শিক্ষক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, পিয়নের মুখে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে হট্টগোলের খবর পেয়ে সেখানে যাই। কিছু অভিভাবক তাদের সন্তানের ভর্তি বাতিল বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে কুড়িগ্রাম মোল্লাপাড়ার ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজের ছেলে বিএনপি নেতা মো. মাসুদ রানা প্রথমে আমার ওপর চড়াও হয়। এরপর ধাক্কা দিয়ে এক কোণায় নিয়ে যায়। একপর্যায়ে সবাই মিলে কিলঘুসি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। বর্তমানে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। একই সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

অভিযুক্ত মাসুদ রানা মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, আমার সন্তানকে ১৮ ডিসেম্বর স্কুলে ভর্তি করাই। ২৮ ডিসেম্বর স্কুলের নোটিশ বোর্ডের মাধ্যমে জানতে পারি আমার সন্তানসহ ৪২ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। সেই ব্যাপারে কয়েকজন অভিভাবকসহ প্রধান শিক্ষককে দরখাস্ত দিয়ে কপি গ্রহণ করি। এ সময় কথা বলার এক পর্যায়ে একজন শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে পড়লে তার সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে লাঞ্ছিত করিনি।

কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াসমিন আরা হক জানান, স্কুলে ভর্তির বিষয়ে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের নামে একাধিক আবেদন করায় ঢাকায় মন্ত্রণালয় থেকে ৪২ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করে দেয়। এ নিয়ে কিছু অভিভাবক কথা বলতে গিয়ে আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এরই প্রতিবাদ করায় সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাই সিদ্দিকীর ওপর চড়াও হন অভিভাবক মাসুদ রানা।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: যুগান্তর
আইএ/ ২২ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button