ইউরোপ

‘বেঁচে নেই পুতিন’, জেলেনস্কির দাবিতে যা বলল রাশিয়া

মস্কো, ২১ জানুয়ারি – রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অসুস্থতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মহলে জল্পনা চলছে। গত বছরের শেষ দিকে তিনি জানিয়েছিলেন, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন না। তাদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছিলেন।

সে সময় জেনারেল এসভিআর নামের রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলে দাবি করা হয়, একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন পুতিন। এর মধ্যে ক্যানসারের মতো মরণঘাতী অসুখ রয়েছে। এ ছাড়া সিঁড়ি দিয়ে পড়ে গিয়ে নাকি পায়ুর হাড়ে চোট পেয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

এর মধ্যেই পুতিনের বেঁচে না থাকার জল্পনা উসকে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত বৃহস্পতিবার সকালে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) মূল অনুষ্ঠানের ফাঁকে ইউক্রেনীয় ব্রেকফাস্ট নামে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন জেলেনস্কি। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলাপ আলোচনা কবে শুরু হবে?

তখনই পুতিন সংক্রান্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

তিনি বলেন, ‘আজকে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারি না, কার সঙ্গে কথা বলব। কী বিষয়েই বা আলোচনা করব। কারণ আমি জানি না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, যাকে মাঝে মাঝে দেখা যায়, তিনি সত্যিই ভ্লাদিমির পুতিন কি না। জানি না তিনি আদৌ বেঁচে আছেন কি না, দেশের সিদ্ধান্ত আদৌ তিনিই নিচ্ছেন কি না।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা জবাব দিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ নেতাদের দাবি, জেলেনস্কি শুধু রাশিয়া নয়, তাদের প্রেসিডেন্টকেও শেষ করে দিতে চান।

রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বলেন, ‘রাশিয়া ও প্রেসিডেন্ট পুতিন- দুই বিষয় নিয়েই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ইউক্রেন ও সে দেশের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। বোঝাই যাচ্ছে, ব্যক্তিগতভাবে জেলেনস্কি চান না রাশিয়া বা পুতিন কারো অস্তিত্ব থাকুক। তবে যত তাড়াতাড়ি তিনি মেনে নেবেন যে রাশিয়া আছে, সেটা জেলেনস্কির পক্ষেই মঙ্গলজনক।’

গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর আজ পর্যন্ত টানা ১১ মাসের বেশি সময় ধরে চলছে দেশ দুটির সংঘাত। এতে দুই পক্ষের বহু হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো পূর্ব ইউক্রেনে দেশ দুটির মধ্যে সংঘাত আরও বেড়েছে।

সূত্র: আমাদের সময়
আইএ/ ২১ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button