জাতীয়

রুমিন ফারহানাকে নিয়ে মুখ খুললেন উকিল সাত্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২১ জানুয়ারি – ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া পদত্যাগ করেন। সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর নিজের ছেড়ে দেওয়া এ আসনে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। এ জন্য তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এমনকি বহিষ্কৃত সাবেক এমপি আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার পক্ষে কাজ করলেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচনের সময়ে সরাইল ও আশুগঞ্জে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত এবং তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার।

এদিকে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির পদত্যাগী আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর হাজী মকসুদ আলী ভূঞা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মতবিনিময় সভার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি।

ওই মত বিনিময় সভায় ছেড়ে দেওয়া আসনে আবার কেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- সে বিষয়ে কথা বলেছেন সাবেক এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমি বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে পদত্যাগ করি। পরে বুঝতে পারি আমি আমার এলাকার জনগণের চাহিদা পূরণ করতে পারি নাই। তাই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চাইছি।

তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র থেকে আমি শুরু করেছিলাম, আবার স্বতন্ত্র দিয়েই আমি শেষ করতে চাই। এজন্য আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই। আপনারা আবার আমাকে কলার ছড়া মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন। আমি যেন আপনাদের বাকি কাজগুলো শেষ করতে পারি। এ সময় উপস্থিত সবাই এই প্রবীণ নেতাকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অপর দিকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বাবা-দাদা চৌদ্দ গোষ্ঠীও তাকে (ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা) চিনত না। তবে তার (ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা) বাবাকে আমরা চিনতাম। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুরোধে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পদে রুমিন ফারহানার নাম প্রস্তাব করেছিলাম। আমার প্রস্তাবে রুমিন ফারহানা এমপি (সংসদ সদস্য) হয়েছেন। এখন আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি আশুগঞ্জের রাজমনি হোটেলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে দলের নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি করেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, বিএনপির ইমেজ নষ্ট করতে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াকে চাপে ফেলে নির্বাচনে আনা হয়েছে এবং যেকোনোভাবেই হোক সরকার তাকে পাশ করিয়ে আনবে। সেজন্য ওই আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও তা পরে তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, এখানে যে ভোট হচ্ছে না সেটা আপনারাও বুঝেন। উনাকে পাশ করাতে আওয়ামী লীগের যা করা দরকার তার সবই করছে। এমনকি তাদের দলের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করিয়েছেন। যে দাঁড়াবে সে পাস করবে জেনেও এই ঝুঁকিটাও আওয়ামী লীগ নিতে চাচ্ছে না। সম্ভবত তাকে ডিক্লেয়ার দিয়ে পাশ করিয়ে দেবে।

তিনি বলেন, উনি আওয়ামী লীগের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছেন, এতে বিএনপির কিছুই হবে না। বিএনপি এত বড় একটা দল, এত মানুষের সমর্থন, এত মানুষের ভালোবাসা, এখানে এক বা দুইজন মীরজাফরি করল কিনা তাতে কিচ্ছু যায় আসে না।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একটা কথা পরিষ্কার বলেছেন, ঘরে ঘরে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। দলের কেউ যাতে উকিল আব্দুস সাত্তারের পক্ষে কাজ না করে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাত্তারের পক্ষে কাজ করলেই বহিষ্কার করা হবে। এ ব্যাপারে দল অত্যন্ত কঠিন।

জানা গেছে, গত ১১ ডিসেম্বর দলীয় সিদ্ধান্তে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। ২৯ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ ছাড়েন তিনি। ১ জানুয়ারি আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। ৪ জানুয়ারি ছেলে মাঈনুল হাসান ভূঁইয়া বাবার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

সূত্র: যুগান্তর
আইএ/ ২১ জানুয়ারি ২০২৩

 

Back to top button