ত্রিপুরা

ত্রিপুরায় আমন্ড বাদাম চাষের উদ্যোগ

সুদীপ চন্দ্র নাথ

আগরতলা, ১৮ জানুয়ারি – ভারতের দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে আমন্ড বাদামের চাষ হলেও ত্রিপুরা রাজ্যে হয় না। ত্রিপুরা সরকারের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অন্তর্গত উদ্যান ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ বিভাগ রাজ্যে প্রথম বারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে আমন্ড চাষ করছে।

আগরতলার পার্শবর্তী নাগিছড়ার উদ্যান ও ফল গবেষণা কেন্দ্রে এগুলো চাষ করা হচ্ছে।
প্রকৃতির নিয়মে শীতে আমন্ড বাদাম গাছের পাতা লাল খয়েরি রঙ ধারণ করে। ত্রিপুরার একমাত্র আমন্ড বাগানটি এখন আগুন রঙের সেজেছে। দৃষ্টিনন্দন এ বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ।

এ কেন্দ্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সুব্রত চৌধুরী বলেন, ছত্রিশগড় রাজ্যের ভি এন আর নার্সারি থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চারা নিয়ে আসা হয়। ভি এন আর -১ জাতের মোট ১০০টি গাছ এনে লাগানো হয়েছিল। প্রথম বছর থেকেই গাছগুলোতে ফল আসছে। এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। লাল খয়েরি পাতার মাঝে জলপাই সবুজ রঙের থোকা থোকা ফল ঝুলে রয়েছে, যেগুলো সবার নজর কাড়ে। ফলগুলো পেকে গেলে ধূসর রং ধারণ করে। আগামী বছরগুলোতেও আরও ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।

 

তিনি বলেন, এ ফল আসতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে। মার্চ মাসের শেষ থেকে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে ফুল ফোটে ও পরের জানুয়ারি মাস নাগাদ গাছ থেকে ফলগুলো সংগ্রহ করা যায়। এ বছরের ফল এখনো সংগ্রহ করা হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে। তখন বুঝা যাবে এক একটি গাছে গড়ে কি পরিমাণ ফল আসছে।

সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, এ রাজ্যের মাটি ও আবহাওয়া আমন্ড চাষের জন্য উপযুক্ত। তাই কৃষকরা যদি এ ফল চাষে এগিয়ে আসেন তবে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এ গাছগুলো একবার লাগালে কাজু বাদাম গাছের মত বড় হয়ে যায়, তাই টানা ৩০ থেকে ৪০ বছর বা তার অধিক সময় ফল পাওয়ায় যায়। চাষের খরচ খুব কম। কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে কৃষক সসহায়ক দলের সদস্য এবং ছাত্রছাত্রীরা প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসেন। তাদের অনেকেই এ গাছগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। এ গাছগুলো রিসার্চ সেন্টারে আসা মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

 

আমন্ড বা কাঠ বাদাম সম্পর্কে-

আমন্ড বাদাম উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের মধ্যম থেকে বৃহৎ পর্ণমোচী গাছ। এর উচ্চতা ২৫ মিটার পর্যন্ত হয়। এ গাছের কাঠ বাদামি বা লালাভ, ডালগুলো চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে। পাতাগুলো বিডিম্বাকার ও উপবৃত্তাকার হয়ে থাকে, লম্বায় ৮ থেকে ২৫ এবং প্রস্থে ৪ থেকে ১৪ সেমি পর্যন্ত হয়।

বর্ষা মৌসুমে পাতার রঙ গাঢ় সবুজ হলেও শীত মৌসুম আসতে আসতে রঙ লাল খয়েরি হয়ে যায় ও ঝরতে থাকে, বসন্ত ঋতু আসতে আসতে গাছের পাতা শূন্য হয়ে যায় এবং গ্রীষ্মের শুরুতে আবার নতুন পাতা গজায়। এগুলো আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়াসহ অস্ট্রেলিয়ার উষ্ণ অঞ্চলে জন্মায়।

সাম্প্রতিক কালে আমেরিকা মহাদেশেও এ গাছটি বিস্তার লাভ করেছে। বর্ষা মৌসুমে এ গাছে আমের মতো মুকুল আসে ও থোকা থোকা ফল ধরে। শক্ত খোলস যুক্ত ফলের ভেতর যে বীজ থাকে তা আমন্ড। এদের অনেকে আবার কাঠ বাদামও বলে থাকেন।

সূত্র: বাংলানিউজ
আইএ/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button