জাতীয়

কারাগারে যেমন আছেন পাপিয়া

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি – ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া বহিষ্কৃত যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। কারাগারে তাকে লেখালেখির কাজ দেয়া হয়েছে।

কারাগারের একটি সূত্র জানায়, কারাগারে কয়েদির পোশাকে সাদামাটা জীবন যাপন করেন পাপিয়া। বন্দিদের বিষয়ে লেখালেখির কাজ করেন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতে কড়াকড়ি থাকায় স্বজনদের কেউ তেমন খোঁজ নিতে আসে না পাপিয়ার। তবে তিনি কারাগারের ফোনে নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার ফারহানা আক্তার বলেন, পাপিয়া ভালো আছেন। তিনি কারাবিধি মোতাবেক সব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন।

২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, নগদ দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছু মুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।

পরে পাপিয়ার ফার্মগেট এলাকার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড উদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। অভিযান চালানো হয় পাপিয়ার নরসিংদীর বাড়িতেও।

গ্রেপ্তারের পর পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব। বিমানবন্দর থানায়ও তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এর অধীনে একটি মামলা করা হয়। আর মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে সিআইডি আরেকটি মামলা করে। এছাড়া দুদকও পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছে। এর মধ্যে তিনটি মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে র‌্যাব। শেরে বাংলা নগর থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলার প্রতিবেদন ২০২০ সালের ২৩ মার্চ জমা দেয়া হয়। সেই মামলায় ওই বছরের ১২ অক্টোবর ২০ বছরের সাজা হয়েছে এই দম্পতির।

যুবলীগের বহিষ্কৃত এই নেত্রী গ্রেপ্তারের আগে গুলশানের অভিজাত হোটেল ওয়েস্টিনের প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট ভাড়া নিয়ে মাসে বিল গুনতেন কোটি টাকা। প্রতিদিন হোটেলের বিল বাবদ গড়ে খরচ করতেন আড়াই লাখ টাকা। সব সময় সঙ্গে থাকত সাতজন অল্পবয়সী তরুণী। আর আনাগোনা ছিল সমাজের নানা পর্যায়ের এলিট মানুষের। তরুণীদের অনৈতিক ব্যবহার, অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান, জাল নোটের কারবার, চাঁদাবাজি, তদবির-বাণিজ্য, জায়গাজমি দখল-বেদখল ও অনৈতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থবিত্তের মালিক হন পাপিয়া ও সুমন দম্পতি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৮ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button