সিলেট

শর্তসাপেক্ষে সিলেটে পেট্রল পাম্প মালিকদের ধর্মঘট স্থগিত

সিলেট, ১৭ জানুয়ারি – সিলেটে ডাকা ধর্মঘট শর্তসাপেক্ষে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের পেট্রল পাম্প মালিকরা। শর্ত পূরণ না হলে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরুর কথা রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও তিনটি তেল কম্পানির ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে সভা শেষে এ ঘোষণা দেন তারা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, সিলেটে জ্বালানি তেল বিপণনকারী কম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিলেটের পেট্রোল পাম্প মালিকদের নেতৃবৃন্দ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘদিনের। আগেও এ নিয়ে আমরা প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি। এবার জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উপস্থিতিতে বৈঠকে জ্বালানি তেলের ঘাটতি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভৈরব থেকে জ্বালানি তেল আনার ক্ষেত্রে সরকারি খরচে তেল এনে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

এই আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে তারা ধর্মঘটের কর্মসূচিতে যাবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখব। এর মধ্যে আশ্বাসের বাস্তবায়ন হলে আমরা ধর্মঘটে যাব না। আর না হলে ধর্মঘটে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।’

জ্বালানি তেলের সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সিলেটে প্রতিদিন যেখানে ডিজেলের চাহিদা ১০ লাখ লিটার সেখানে আমরা এখন পাই প্রতিদিন তিন লাখ লিটার করে। একইভাবে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা প্রতিদিন তিন লাখ লিটার আর সরবরাহ করা হয় মাত্র ৫০ হাজার লিটার। এই বিপুল চাহিদার বিপরীতে সামান্য সরবরাহ দিয়ে পাম্প চালানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।’

পেট্রল পাম্প মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, মূলত সিলেটে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিনটি তেল পরিশোধনাগার আছে। অজানা কারণে এগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে সিলেটে জ্বালানি তেলের সংকট অব্যাহত রয়েছে। দুই বছর ধরে এ নিয়ে আন্দোলনের পর আন্দোলন করে যাচ্ছেন পেট্রল পাম্প মালিকরা; কিন্তু তাতে কোনো স্থায়ী সুরাহা হচ্ছে না। কঠোর আন্দোলনে গেলে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কিছুদিন সরবরাহ বাড়ে। তারপর ফের সংকট। বর্তমানে রেলওয়ের ওয়াগন সংকট এবং শীত মৌসুমে চাহিদা বাড়ায় তার সঙ্গে সরবরাহের ফারাক অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় সিলেটের ব্যবসায়ীদের ভৈরব থেকে নিজ খরচে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়।

সূত্র: কালের কণ্ঠ
আইএ/ ১৭ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button