টলিউড

বাংলাদেশের খাবারের ধারেকাছেও যাব না

কলকাতা, ১৬ জানুয়ারি – ঢাকায় অবস্থান করছেন কলকাতার অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২১তম আসরে অংশ নিতে রোববার ঢাকায় আসেন তিনি। এই আয়োজনে তাঁর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘এবং ছাদ’-এর প্রদর্শনী হচ্ছে। তার আগে কাজ, নির্মাণ ও ব্যক্তি জীবনের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেন তিনি…

এর আগেও ঢাকায় আসা হয়েছে। এবার ক’দিনের জন্য আসা?

১৫ তারিখে ঢাকায় এসেছি। ফিরব ২৩ তারিখে। এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের সফর এবার। কারণ ঢাকা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ১৬ তারিখে আমার নির্মিত ছবি ‘এবং ছাদ’ প্রদর্শনী হচ্ছে। এরপর ২১ তারিখে আমার অভিনীত আরেকটি ছবির প্রদর্শনী। এরপর এই আয়োজেনর শেষ দিনের অর্জনটা কী হয় সেটা দেখেই কলকাতায় ফিরব।

নিজের অভিনীত ছবি উৎসবে দেখানো হয়েছে এর আগে। এবার দেখানো হচ্ছে আপনার নির্মিত ছবি। কেমন লাগছে বিষয়টি?

এটা দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এখানে আমি এসেছি নিজের নির্মিত ছবি নিয়ে। যে ছবির নির্মাতা ও প্রযোজক আমি নিজেই। আমার প্রথম পরিচালিত ছবি এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রিমিয়ার হচ্ছে। তাও আমার ভালোবাসার শহর ঢাকাতে। ঢাকা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। এটা আমার কাছে বিরাট পাওয়া। কত নির্মাতা আছে তারা কত ছবি করেছে। কিন্তু এইরকম একটা প্লাটফর্মে তাদের ছবি নেই। কিন্তু আমার প্রথম কাজ দেখানো হচ্ছে। এটা অবশ্যই আমার জন্য বিশাল পাওয়া।

 

বলছেন বড় বড় নির্মাতাদের ছবিও সিলেক্ট হয়নি, আপনি পেয়েছেন। এটা আপনি অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র বলেই কি পেলেন?

না না, একদমই তা নয়। আমি সব নিয়ম কানুন মেনে এই উৎসবে ছবিটা জমা দিয়েছি। এখানে যারা জুরি আছেন তারা হয়তো অনেক ছবির আবেদনই পেয়েছে। কিন্তু তারা দেখে শুনে যেটা ভালো লেগেছে সেটাকেই এখানে প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। এখানে আলাদা করে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র নামটি ম্যাটার করেনি। ম্যাটার করেছে নির্মাণ। কোনো তদবির করে পাওয়া হয়নি।

আপনার বানানো ‘এবং ছাদ’ তো নিজের শহরের ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেই সিলেক্ট হয়নি। ঢাকার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কিভাবে নির্বাচিত হলো?

আমার শহরে আমাদের ছবির প্রদর্শনীতে আমার ছবি সিলেক্ট হবে না, এমন ধারণা আগেই ছিল। হয়ওনি। তাই ঢাকায় নিজের ছবি নিয়ে আসা। সব নিয়ম মেনেই ঢাকার এই আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে জমা দেই এবং সিলেক্টও হয়। তবে এখানে একটা বিষয় যোগ করব, সেটা হচ্ছে আমি কলকাতার মেয়ে। আমার জন্মস্থানও বাংলাদেশ নয়, কলকাতা। তবে বাবার বাড়ি বাংলাদেশে। তাই আমার মনে হচ্ছে, ঢাকার লোকজন হয়তো আমাকে একটু বেশি ভালোবাসেন।

 

আপনি বলতে চাচ্ছেন, কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রের সঠিক মূল্যায়নের অভাব রয়েছে?

কিছুটা তো রয়েছেই। ওখানে যারা চলচ্চিত্র মূল্যায়ন করে তাদের চলচ্চিত্র মূল্যায়ন করার ক্ষমতার ওপর আমার যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মূল্যায়ন করার মতো যোগ্যতা আছে কিনা সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ।

এই ছবির প্রযোজকও আপনি। প্রথম ছবি নিজের টাকায়ই বানানোর দরকার হলো কেন?

প্রযোজনা আমি করতে চাই না। নিন্তু আমাকে অভিনেত্রী হিসেবে সবাই চেনেন বা ভালোবাসলেও আমার প্রথম নির্মাণে তাদের আস্থা নাও থাকতে পারে। তাই প্রথম ছবিটা নিজের টাকায় বানিয়েছি। নিজের টাকায় বানানো এই ছবি দেখে যদি প্রযোজকদের আমার কাজের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা জন্মায়, তারা যদি এখন লগ্নী করেন, তাহলে আমি পরের প্রজেক্ট বানাবো। নিজের টাকায় আর ছবি বানাব না।

এবার অন্য প্রসঙ্গে আসি, ঢাকার এসে আপনার প্রিয় খাবারগুলো খাওয়া হয়েছে কি?

বাংলাদেশের খাবারের ধারে কাছেও আমি যাব না। আমার সাইজ দেখে তো বুঝতেই পারছেন। আমি কেমন মোটাসোটা আছি। বাংলাদেশের খাবার এত মজার যে, খাবারের টেস্ট নিতে গেলে এই খাওয়া থামবেই না। তাই ফুডের ধারে কাছেও যেতে চাইছি না। চেষ্টা করছি, খাবার তেমন না খেতে!

ঢাকার ছবিতে অভিনয় করছেন কবে?

ঢাকার অনেক অভিনেতাদের সঙ্গেই তো কাজের অভিজ্ঞতা আছে। এখন অপেক্ষা করছি, ঢাকার ছবিতে অভিনয় করার। এখান থেকে আমাকে ভালো গল্পের ছবির প্রস্তাব দেওয়া হোক বলে আশা করি। এখানকার নির্মাতারা তো দারুণ দারুণ কাজ করেন। সেগুলো করতে পারাটা আমার জন্যই আনন্দের হবে।

আইএ/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button