দক্ষিণ এশিয়া

আগ মুহূর্তে পাইলটের কাছ থেকে অস্বাভাবিক কোনো বার্তা মেলেনি

কাঠমান্ডু, ১৬ জানুয়ারি – নেপালের পোখারায় বিধ্বস্ত হওয়া প্লেনের পাইলট বিমানবন্দরের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় অপ্রীতিকর কিছু ঘটতে যাচ্ছে বলে জানাননি বা যাত্রীদের সতর্ক করেননি। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে প্লেনটির জন্য নির্ধারিত রানওয়ে পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) পে্লনটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করার পর পোখারা বিমানবন্দরের মুখপাত্র অনুপ জোশি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, পোখারার পর্বতগুলো পরিষ্কার ছিল, এমনকি দৃষ্টিসীমাও ছিল বেশ স্পষ্ট। হালকা বাতাস থাকলেও আবহাওয়ায় কোনো সমস্যা ছিল না। কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে আমরা এখনো সন্দিহান।

তিনি আরও বলেন, শেষ মুহূর্তে পাইলট প্লেনটির জন্য নির্ধারিত তিন নম্বর রানওয়ে পরিবর্তন করে এক নম্বর রানওয়েতে অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন। আমরা বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তার ওই আবেদন মঞ্জুর করি। দুটি রানওয়েই পরিষ্কার করা হয়েছিল, যাতে পাইলট তার সুবিধামতো অবতরণ করতে পারেন।

‘বিমানবন্দরটি চালু করার ১৫ দিনের মাথায় এমন দুর্ঘট আসলেই অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ৩০ বছরের মধ্যে এটিই নেপালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা।’

এদিকে, সোমবার দুপুরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেম নাথ ঠাকুর নিশ্চিত করেন, প্লেনটির ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র জগন্নাথ নিরাউলা জানান, ব্ল্যাক বক্সটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে এটি কাঠমান্ডুতে তদন্তদলের কাছে পাঠানো হবে।

রোববার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুর্ঘটনা তদন্তে সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নগেন্দ্র ঘিমিরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার কাঠমান্ডু থেকে পোখারা যাওয়ার পথে সেতী নদীর তীর পাহাড়ি এলাকায় ইয়েতি এয়ারলাইন্সের এটিআর-৭২ পে্লনটি অবতরণের আগ মুহূর্তে বিধ্বস্ত হয়। সেটিতে ৬৮ জন আরোহী ও চারজন কেবিন ক্রু ছিলেন।

দেশটির অভ্যন্তরীণ রুটে বিধ্বস্ত প্লেনে স্থানীয়দের পাশাপাশি ১৫ বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন ভারতের, চারজন রাশিয়ান, একজন আইরিশ, দুজন দক্ষিণ কোরিয়ার, একজন অস্ট্রেলিয়ার, একজন ফ্রান্সের ও একজন আর্জেন্টিনার নাগরিক।

সোমবার সকালে উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে কাউকে জীবিত অবস্থায় পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান। স্থানীয় কর্মকর্তা টেক বাহাদুর বলেন, এখন পর্যন্ত ৬৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এখন সেখান থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দেখছি না।

তিনি আরও বলেন, প্লেনটির ফ্লাইট ডেটা ও ভয়েস রেকর্ডার পাওয়া গেছে। সেগুলোর তথ্য দতন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার কারণ জানাবে।

এদিকে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল এ দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সোমবার একদিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন।

জানা যায়, দূরবর্তী ও জটিল রানওয়েসহ সুউচ্চ পর্বতের কারণে নেপালে দক্ষ পাইলটদেরও বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। এর পাশাপাশি আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে দেশটিতে প্রায়ই প্লেন দুর্ঘটনা ঘটে।

তবে অতীতে ঘটা বেশকিছু প্লেন দুর্ঘটনার পেছনে এই খাতে বিনিয়োগের অভাব ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে দায়ী করা হয়। প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেপালের সব এয়ারলাইন্সের বিমানকে ইইউর আকাশসীমায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

সূত্র: জাগো নিউজ
আইএ/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button