দক্ষিণ এশিয়া

আফগানিস্তানে নারী অধিকার নয়, ইসলামিক আইনই গুরুত্ব পাবে

কাবুল, ১৫ জানুয়ারি – ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তালেবানরা ক্রমাগতভাবে নারীদের অধিকার দমন করে আসছে। তাদের পদক্ষেপে সারা বিশ্বে বিপুল বিতর্ক এবং সমালোচনার পরেও নিজেদের অবস্থানে অনড় রইল তালেবান। স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেয়া হল, নারী অধিকার বা সমানাধিকার নয় দেশটিতে গুরুত্ব পাবে ইসলামিক আইনই।

শনিবার তালোবানের প্রধান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ দেশটির স্থানীয় স‌ংবাদমাধ্যম খামা প্রেসকে জানিয়েছেন, ইসলামিক আইনের বিরুদ্ধে যায়, এমন কোনও কার্যকলাপকে তারা বরদাস্ত করবেন না। নারী স্বাধীনতার বিষয়টি দেশের প্রচলিত ইসলামিক আইনের নিরিখে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়াও আফগানিস্তানের অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে ধর্মীয় বিধান মানতে এবং মানবিক সহায়তাকে রাজনীতির সাথে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তালোবানের মুখপাত্র।

ক্ষমতায় আসার পরপরই নারীদের ওপর জারি করা হয় বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা। গত ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ও এনজিওগুলোতে নারীদের নিষেধাজ্ঞা ঘোষনা এই নারীদের ওপর তালেবানের সর্বশেষ আদেশ।

এনজিওগুলোতে নারীদের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে তালেবানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদেল রহমান হাবিব দাবি করেছেন, বিদেশী সাহায্য গোষ্ঠীর নারী কর্মীরা হিজাব না পরে ইসলামিক পোশাকবিধি ভঙ্গ করেছে।

তালেবানের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হন সে দেশের মেয়েরা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী এবং নারী অধিকার রক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এ নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাতিসংঘ (ইউএন), ওআইসি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো তালেবানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে এবং নারীদের ওপর প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক ভাবেও চাপ বাড়ানো হয়েছিল কাবুলের উপর। কিন্তু এসবের পরেও তালেবান প্রশাসনের তরফে জানিয়ে দেয়া হল, শরিয়ত বিরোধী কোনও কাজকেই সে দেশে মেনে নেয়া হবে না।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১৫ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button