জাতীয়

ছোট দলের বৃহৎ ঐক্যে অস্বস্তিতে বিএনপি

আকরাম হোসেন

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি – ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনসহ নানা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলন করছে বিএনপি। এই আন্দোলনে মোট ৫৩টি দল ও সংগঠন যুক্ত হয়েছে। নামসর্বস্ব দল ও সংগঠনের সঙ্গে বৃহৎ ঐক্য গড়ে বিএনপি এখন অস্বস্তিতে। হচ্ছে বিদ্রুপের শিকার।

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে ৪টি রাজনৈতিক জোট যুক্ত হয়েছে। এগুলো হলো ৭ দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’, ৪ দলের সমন্বয়ে ‘বাম গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট’, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’। এছাড়াও ১৫টি পেশাজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে ‘সমমনা গণতান্ত্রিক জোট’ রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ও গণফোরামের একাংশ স্বতন্ত্রভাবে যুগপৎ আন্দোলন করছে।

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের বৃহৎ ঐক্যে জোটের সংখ্যা বেড়েছে, দলও বেড়েছে। জোটের অধিকাংশ নামসর্বস্ব দল ও সংগঠন। যাদের সাংগাঠনিক কার্যক্রম নেই। নেই নেতাকর্মী। আন্দোলনে ভূমিকা রাখার মত জনবল নেই। এমন অকার্যকরী দল ও নামসর্বস্ব সংগঠন নিয়ে বৃহৎ ঐক্য শুধু সংখ্যা বেড়েছে।

যুগপৎভাবে দুটি কর্মসূচি পালন করেছে সরকার বিরোধী সমমনা দলগুলো। ১০ জানুয়ারি গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে বিজয়নগর পানির ট্যাংকির পাশে ১২ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে হাতেগোনা কিছু লোক দেখা যায়। অবস্থান কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক শেষ হওয়ার আগেই লোকসংখ্যা কমে দুইশর মত এসে দাঁড়ায়। একই অবস্থা ছিল আল-রাজী কমপ্লেক্সের সামনে সমমনা জাতীয়তাবাদী জোটের গণ-অবস্থানেও।

অন্যদিকে জনা পঞ্চশ লোক নিয়ে ১৫টি সংগঠনের ব্যানারে কাকরাইল মোড়ে গণ-অবস্থান করে সমমনা গণতান্ত্রিক জোট। গণ-অবস্থানে ১৫ সংগঠনের কয়েকজন নেতা ছিলেন না। ঢাকার বাইরে এসব দল বা সংগঠনের কর্মসূচি দেখা যায়নি। তবে সারাদেশে বিএনপির কর্মসূচি পালন করেছে। যা নিয়ে হাস্যরস করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কাদের বলেন, ৫৪ দল একজন শেখ হাসিনার বিরেুদ্ধে। কী হবে? ৫৪টি ঘোড়ার ডিম পাড়বে ৫৪টি দল। ভুয়া ভুয়াভুয়া এটা গরুর হাট।

৮ জানুয়ারি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৫ টি পেশাজীবী সংগঠন নিয়ে গঠিত হয় সমমনা গণতান্ত্রিক জোট। জোট গঠনের সময় উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তত্ত্বাবধান করেছেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান। এসময় কারাগারে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। এ জোট নিয়ে মহাসচিব ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমাকে যেসব দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আমি তা করছি। এর বাইরে আমি কিছু বলতে পারব না।

বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে দলের সংখ্যা নিয়ে আপত্তি তোলেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে রয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) ইবরাহিমের নেতৃত্বে ১২ দল ও এলডিপি। যাদের সঙ্গে আমাদের যুগপৎ আন্দোলন হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমাদের দুই বছর আগে থেকে বৈঠক হয়েছে, আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক দল বা সংগঠন যুগপৎ কর্মসূচি পালন করছে। এদের সঙ্গে বৈঠক হয়নি। তবে কেউ যদি আমাদের যুগপৎ আন্দোলনে উৎসাহিত হয়ে কর্মসূচি পালন করে, তা করতে পারে। সবার অধিকার আছে।

প্রিন্স বলেন, বড়-ছোট সব দল মিলেই আমরা আন্দোলন করছি। বড় দলে যে সামর্থ্য তা ছোট দলে থাকবে না। তারপরও আমরা এক সাথে আন্দোলন করছি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/১৫ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button