নেত্রকোনা

চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না দেখে যে সিদ্ধান্ত নিলেন গ্রামবাসী

নেত্রকোনা, ১৪ জানুয়ারী – চলতি বোরো মৌসুমের শুরু থেকেই নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। এরইমধ্যে গত কয়েকদিনে উপজেলার কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের গরু ও ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বোরো আবাদে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় গরু চুরির এসব ঘটনায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না চুরি।

শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নে গগডা উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এক বৈঠক হয়। বৈঠকে গ্রামটি নেতৃত্বস্থানীয় লোকজনসহ শত শত সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন।

গ্রামে কোনো চোর থাকতে পারবে না- বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান বৈঠককারীরা। তবে কোনো চোর যদি চুরি ছেড়ে দিয়ে সংশোধন হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে তার গ্রামে বসবাস করতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে না বলেও ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ অবস্থায় গরু চুরি প্রতিরোধে গত বেশ কিছুদিন যাবত উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা গ্রামের লোকজন পালাক্রমে পাহারা বসিয়ে আসছিলেন। এরইমধ্যে গত ৮ জানুয়ারি রাতে গগডা উত্তরপাড়া গ্রামের সুবাস দেবনাথ নামে এক কৃষকের গরু চুরির প্রস্তুতিকালে স্থানীয়রা টের পেয়ে রবি নামে এক চোরকে ধাওয়া করলে সে আহত হয়।

এ বিষয়ে কথা হলে বৈঠকের পরিচালক গগডা (ভূঁইয়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. লুৎফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গগডা গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর চৌধুরী বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন।

এছাড়া ওই বৈঠকে গগডা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া মজনু, ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মজনু, ইউপি সদস্য হলুদ মিয়া, শিক্ষক আব্দুল কাইয়ূম ভূঁইয়া, শিক্ষক এখলাস উদ্দিন, ব্যবসায়ী জানু মিয়াসহ গ্রামের শত শত লোকজন অংশ গ্রহণ করেন বলে সংশ্লিষ্ট জানা গেছে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, চোর ধরে থানা পুলিশের কাছে দেওয়ার পর আবার বেড়িয়ে এসে এলাকায় হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তাই এলাকার মানুষ নিরাপদ থাকা ও সচেতনতার জন্য এ বৈঠক করা হয়েছে।

গরু চুরি প্রতিরোধে অনেক এলাকায় গ্রামের লোকজন রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা বসিয়েছেন এবং স্থানীয় থানা পুলিশ ও গ্রামপুলিশের সমন্বয়ে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিটভিত্তিক ৩৪টি কমিটি গঠন করেও পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী হোসেন বলেন, চুরি প্রতিরোধে এলাকায় জনসচেতনতামূলক সভা হয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রাম থেকে ৫টি গরু ও একটি ছাগল চুরি হয়েছে। এর কয়েকদিন আগে একই উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের সিংহেরগাঁও গ্রাম থেকে চোরেরা গোয়ালঘরের তালা এক কৃষকের ছয়টি গরু নিয়ে যায়।

এছাড়া গত মাসে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের কৃষক কাঞ্চন মিয়ার গোয়ালঘর থেকে চোরেরা প্রায় ৭০ হাজার টাকা দামের একটি গরু চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিয়ে জানু মিয়া (২১) নামের এক চোরকে ধরে ফেলে। এ সময় চোরাই গরুটিও উদ্ধার হয়। তবে অন্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে এ ঘটনার পরদিন গরুর মালিক কাঞ্চন মিয়া বাদী হয়ে আটক চোর জানু মিয়াসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন।

সূত্র : যুগান্তর
এন এ/ ১৪ জানুয়ারী

Back to top button