পশ্চিমবঙ্গ

জোশীমঠের ভীতি দার্জিলিংয়ে, ‘মাটি দেবে যাচ্ছে’

কলকাতা, ১৩ জানুয়ারি – ভারতের দার্জিলিংয়ের রাজবাড়ি পাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা বিকাশ সুব্বা, দীনেশ কাঙ্কানিরা জানান- দরজা, জানালার ছিটকিনি কিছু দিন পর আর লাগে না। নতুন করে সেসব ঠিক করতে হয়।

তারা আরো বলেন, মাটি দেবে যাচ্ছে। মেঝে দেবে যাচ্ছে। ছিটকিনির আর দোষ কী? দার্জিলিং জেলার তিনধারিয়ার বাসিন্দাদের মুখে এখন জোশীমঠের প্রসঙ্গ।

বিকাশ সুব্বা, নাইমুদ্দিন আনসারিদের কথায়, এখনো এই এলাকার মাটি বসে যাচ্ছে। বাড়িতে, দোকানে ফাটল ধরছে। জোশীমঠের দশায় আমরা চিন্তিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে তিনধারিয়া বাজারে নেমে গেছে যে রাস্তা, গত কয়েক বছরে সেখানে মাটি বসে সিঁড়ির মতো ধাপ তৈরি হয়েছে। পাশের ‘গার্ড ওয়াল’-এর ফাটল বাড়ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ১০ বছরে এলাকার জনসংখ্যা বেড়েছে ছয় হাজারের উপরে। এলাকায় মাটির নীচে কয়লাও রয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশ তা তুলতেন। এমনিতেই এই জায়গা ভূপ্রাকৃতিক ভাবে ‘সিঙ্কিং জোন’ (ক্রমশ বসে যাওয়া এলাকা) বলে চিহ্নিত। কয়লা তোলায় বিপদ বেড়েছে। এলাকাকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে বছর দশেক আগে ‘গ্রামকল্যাণ সমিতি’ গড়ে ওঠে।

সেই সমিতির সম্পাদক প্রমোদ থাপা বলেন, অবৈধভাবে কয়লা তোলা হলে বিপদ আরো বাড়বে। তাই প্রচার চালিয়ে মানুষকে সচেতন করি। কয়লা তোলা কার্যত বন্ধ করা গেছে। তবে বাসিন্দাদের আরো সচেতন হওয়া দরকার।

দার্জিলিং হিমালিয়ান রেল সূত্রে জানা গেয়েছে, তিনধারিয়ায় রেলের ‘ওয়ার্কশপ’ এলাকায় বড় ধস নেমেছে আগে। ১৭ মাইলে মাটি বসে যাওয়ায়, কয়েক বছর পর পর রেল লাইন তুলে ঠিক করতে হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান সুবীর সরকার বলেন, জোশীমঠের সঙ্গে এই এলাকার অনেক মিল। তবে সেখানে গোটা উপত্যকা বসে গেছে। ততটা না হলেও, এখানেও মাটি বসছে। বসে যাবে। ধস হবে। তিনধারিয়া দার্জিলিং পাহাড় তো বটেই, পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে সব চেয়ে বেশি ধস এবং মাটি বসে যাওয়ার প্রবণতা থাকা অঞ্চল।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ১৩ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button