দক্ষিণ এশিয়া

নারীদের যৌন নিপীড়নের দায়ে ‘জিলাপি বাবা’র ১৪ বছরের জেল

নয়াদিল্লি, ১২ জানুয়ারি – ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের বহুল আলোচিত ‘জিলাপি বাবা’কে নারীদের যৌন নিপীড়নের দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাজ্যের ফতেহাবাদ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গত ৫ জানুয়ারি কথিত ওই ধর্মগুরুকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

টোহানা শহরের আলোচিত এই জিলাপি বাবা অমরপুরী এবং বিল্লু রাম নামেও পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নারীদের যৌন নির্যাতন করে সেগুলো ভিডিও করতেন। এরপর সেই ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইলও করতেন।

নির্যাতিত নারীরা লজ্জার কারণে পরিবারের কাউকে বিষয়টি জানাতেন না। কিন্তু ২০১৭ সালে এক নারী পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ জানান। তারপরই গ্রেফতার হন ‘জিলাপি বাবা’।

 

কে এই ‘জিলাপি বাবা’
বিল্লু রামের জন্ম পাঞ্জাবের মনসায়। মাত্র আট বছর বয়সেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান তিনি। ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছান দিল্লিতে। সেখানে দিগম্বর রামেশ্বর নামে এক ‘বাবা’র সঙ্গে দেখা হয় তার।

পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে বিল্লু রাম জানিয়েছেন, ওই দিগম্বর রামেশ্বরকে নিজের গুরু মেনে তার সঙ্গে উজ্জয়নে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে ছিলেন প্রায় ১০ বছর। তারপরে নিজ গ্রাম মনসায় ফিরে আসেন এবং বিয়েও করেন।

একসময় রোজগারের আশায় পাঞ্জাব থেকে হরিয়ানার টোহানা শহরে পৌঁছান বিল্লু রাম। একটি ঠেলাগাড়িতে জিলাপি বিক্রি শুরু করেন তিনি।

টোহানার বাসিন্দা ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গুরদীপ ভাটি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই বিল্লুর জিলাপি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ছোট শহরটি তার জিলাপির বেশ নামডাক হয়।’

‘২০ বছর আগে নিজের বাড়িতেই একটি মন্দির বানান বিল্লু রাম। ওই মন্দিরে বসে তিনি নারীদের নানা সমস্যার কথা শুনে সমাধানের পথ বলে দিতেন। সে সময়ই বিল্লু রাম থেকে তিনি হয়ে ওঠেন জিলাপি বাবা।’

মাদক খাইয়ে যৌন নির্যাতন
কোনো একটা ‘মন্ত্র’ পড়ে নারীদের সুস্থ করে তুলতেন বলে দাবি করতেন জিলাপি বাবা। সেই সময় চা বা অন্য কিছুর সঙ্গে মাদক মিশিয়ে খাইয়ে দিতেন রোগীদের। নেশা হওয়ার পরে ওই নারীদের ওপর চালাতেন যৌন নির্যাতন। পুলিশের অভিযোগপত্রে এমনটাই জানানো হয়েছিল।

জানা যায়, বিল্লু রাম ওরফে জিলাপি বাবার মন্দিরে লাগানো গোপন ক্যামেরায় নারীদের যৌন নির্যাতনের ভিডিও রেকর্ড হয়ে থাকতো। আর ওই ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নির্যাতিতাদের ব্ল্যাকমেইল করতেন ওই ভণ্ড ধর্মগুরু।

প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি নাবালিকাদেরও নিজের শিকার বানিয়েছেন জিলাপি বাবা। আর ব্ল্যাকমেইল করে অনেকের কাছ থেকে মোটা অর্থ আদায় করেছেন তিনি।

যেভাবে ধরা পড়েন জিলাপি বাবা
লোকলজ্জার ভয়ে নির্যাতিতা নারীরা পুলিশের কাছে বা নিজের পরিবারের কাছেও মুখ খুলতেন না। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর এক নারী জিলাপি বাবার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তার সঙ্গে যা করা হয়েছে, সেই অশ্লীল ভিডিও ওই ‘জিলাপি বাবা’ ভাইরাল করে দিয়েছিলেন।

পরে নারী নির্যাতনের পাশাপাশি বিল্লু রামের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির মাদক এবং অস্ত্র আইনেও মামলা করে পুলিশ। মন্দির থেকে উদ্ধারও হয় মাদক।

আদালত সেই সব প্রমাণ বিচার করে জিলিপি বাবা হয়ে ওঠা বিল্লু রামকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সূত্র: জাগো নিউজ
আইএ/ ১২ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button