জাতীয়

বঙ্গবন্ধু স্মরণে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি – স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে সংসদে একটি সাধারণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ দিন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ১৪৭ বিধির এ প্রস্তাব সংসদে তোলেন। প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতির ভালোবাসার ঋণ শোধ করেছিলেন। মানুষের উন্নয়ন ও দেশকে সমৃদ্ধিশালী করে তার সেই রক্তের ঋণ শোধ করার সময় এসেছে। স্মার্ট
বাংলাদশ গড়াই হবে জাতির পিতার রক্তের ঋণ শোধ করা।’

বঙ্গবন্ধুু দেশের মানুষের মুক্তি চেয়েছিলেন উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, ‘বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধু আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিলেন। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে দেশকে গড়ে তুলেছিলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছিলেন। মানুষের ভোটের অধিকার মানুষের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সংবিধান মোতাবেক ১৯৭৩ সালেই নির্বাচন দেন। বিপ্লব বা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়ার পর এত অল্প সময়ের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার ইতিহাস বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই।’ সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) দেশের প্রবৃদ্ধি ৯ ভাগের ওপরে তুলেছিলেন। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিল।’
আওয়ামী লীগ যে কথা দেয়, তা রাখে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা স্বাধীনতা দেবেন বলেছিলেন, দিয়ে গেছেন। স্বল্পোন্নত দেশে রেখে গিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরে এই দেশের মানুষের কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক সাশ্রয় এসেছে। মানুষ অন্তত দুইবেলা পেট ভরে খেতে পারছে।’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা না থাকলে দেশ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যেত বলে মনে করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ ও কারোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের খুব কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। যেখানে উন্নত দেশ নিজেদের অর্থনৈতিক মন্দা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। আমরা সেখানে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে সক্ষম হচ্ছি।’

প্রস্তাবের ওপর সরকারি দলের এমপি হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোশাররফ হোসেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ, কামরুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন আলোচনা করেন।

ধাক্কা দিয়ে আ.লীগকে ফেলে দেওয়া অসম্ভব
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধাক্কা দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়। কেননা আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি-জামায়াতের গণঅবস্থান কর্মসূচি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আবার বলে ১১ তারিখ থেকে তারা আন্দোলন করবে। আবার তাদের সঙ্গে জুটে গেছে অতিবাম, অতিডান। সব এক জায়গায় হয়ে ক্ষমতা থেকে নাকি আমাদের উৎখাত করবে। একটা কথা আমি বলে দিতে চাই, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে, জনগণের কল্যাণে কাজ করে, আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিল আর আওয়ামী লীগ পড়ে গেল, এত সহজ নয়।’

সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে একবারই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, মেয়াদ শেষ হলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ২০০১ সালের জুলাই মাসে ক্ষমতা হস্তান্তর করি।’

সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এতে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. ফারজানা ইসলাম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএ মান্নান কচি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বক্তব্য দেন। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
সূচনা বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবাইকে আহ্বান জানাব প্রস্তুত হন। সামনে নির্বাচন। সাম্প্রদায়িক শক্তি বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় আজ মাঠে নেমেছে জঙ্গিবাদী, সন্ত্রাসবাদী শক্তি। এদের প্রতিহত করতে হবে, পরাজিত করতে হবে। যারা আমার দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে, আমার দেশে যারা সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ঘটিয়েছে, সেই বিএনপির হাতে এ দেশের ক্ষমতা আমরা তুলে দিতে পারি না।’

সূত্র: আমাদের সময়
আইএ/ ১১ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button