রূপচর্চা

শীতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় কাঁচা দুধ

শীতে পরিবেশে আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে যায়। শীতের হিমহিম ছোঁয়া শরীরের জন্য আরামদায়ক হলেও ত্বকের জন্য নয়। আবহাওয়ার কারণে এ সময় ত্বকে কিছু সমস্যা তৈরি হয়। শীত যত বাড়তে থাকে, ত্বকের সমস্যা ততই বেশি হতে শুরু করে। এ সময় প্রধান সমস্যাই হচ্ছে ত্বক শুষ্ক, খসখসে হয়ে যাওয়া। ত্বকে সমস্যা তৈরি হওয়ার পর আর কিছু করার থাকে না। শীতের সময় নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলে আপনি থাকবেন সতেজ, তরতাজা। শীতে ত্বকের সব সমস্যা দূর করতে কাঁচা দুধ আপনার জন্য হতে পারে কার্যকরী উপায়। কাঁচা দুধে এমন অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চার অন্যতম প্রধান উপকরণ হিসাবে কাঁচা দুধের জুড়ি মেলা ভার।

কাঁচা দুধ ত্বককে ভিতর থেকে হাইড্রেট করে এবং শুষ্ক ও প্রাণহীন ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এমনকি যদি আপনার মুখে বয়সের আগেই বলিরেখা থাকে, তাহলেও আপনার কাঁচা দুধ ব্যবহার করতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ত্বকে কাঁচা দুধ ব্যবহার করবেন এবং এর উপকারিতাগুলো কী-কী।

প্রাকৃতিক ক্লিনজ়ার হিসাবে কাঁচা দুধ ব্যবহার করতে পারেন। দুধে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন থাকে, যা ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে সাহায্য করে। শীতের মরসুমে ত্বক নিস্তেজ দেখায়। এ ক্ষেত্রে কাঁচা দুধ তুলোয় ভিজিয়ে লাগিয়ে নিতে পারেন। ত্বক সতেজ দেখাবে।

আরও পড়ুন ::

শীতকালে ত্বক রুক্ষ দেখায়। এ ক্ষেত্রে কাঁচা দুধ ভীষণ ভাল ময়েশ্চারাইজ়ার হিসাবে কাজ করে। এটি ত্বকের গভীরে ঢুকে আর্দ্রতা ধরে রাখে। শুষ্ক ত্বকের জন্য হেঁশেলের এই উপাদানটি দারুণ উপকারী।

দুধে ভাল মাত্রায় ল্যাকটিক অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানটি ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। যাঁরা ব্রণ, ফুসকুড়ি, র‌্যাশের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরাও ত্বকে কাঁচা দুধ ব্যবহার করতে পারেন। সুফল পাবেন। ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে আনতেও ল্যাকটিক অ্যাসিড দারুণ উপকারী।

কাঁচা দুধে বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানটি ত্বকের মৃতকোষগুলি দূর করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক কোমল দেখায়।

নিয়ম করে কাঁচা দুধ মাখলে কোলাজেন উৎপাদনের হার বেড়ে যায়। ফলে নতুন কোষ গঠিত হয়। তাই কাঁচা দুধ ত্বকে বয়সের ছাপ ঠেকিয়ে রাখতেও সাহায্য করে। দুধে উপস্থিত ভিটামিন ডি ত্বককে মসৃণ ও টানটান রাখে।

যেভাবে ব্যবহার করবেন কাঁচা দুধ

ত্বকের বলিরেখা দূর করতে টক দই ও কাঁচা দুধ মুখে লাগাতে পারেন। ২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের জেল্লা ফিরিয়ে আনতে কাঁচা দুধ, বেসন, মধু আর এক একটু হলুদ মিশিয়ে ফেসপ্যাক বানিয়ে ব্যবহার করুন। মিনিট ১৫ রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ট্যান পড়েছে? কাঁচা দুধের সঙ্গে টম্যাটোর রস মিশিয়ে নিয়মিত লাগান। ত্বকের কালচে দাগ দূর হবে।

মুখের শুষ্কতা দূর করতে

৪ টেবিল চামচ দুধে আধা চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে ঘাড় থেকে মুখে লাগান। এটি কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য ত্বকের ওপর রেখে দিন। এরপর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনার ত্বককে খুব নরম করে তুলবে এবং আপনি অল্প সময়ের মধ্যেই এর প্রভাব দেখতে পাবেন।

দাগ অপসারণ করতে

কাঁচা দুধে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকের ওপর প্রয়োগ করলে তা দারুণ ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। আপনি যদি আপনার মুখের ত্বকের কালো ভাবকে হালকা করতে চান, দাগ দূর করতে চান, তাহলে দুই চামচ কাঁচা দুধের সঙ্গে এক চামচ মধু এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এর পর মুখ জল দিয়ে পরিষ্কার করুন। অল্প দিনের মধ্যে আপনি নিজেই পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারবেন।

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ব্যবহার করুন কাঁচা দুধ

দুধের মধ্যে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড যা ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, শীতে ক্রমাগত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ফলে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। আপনিও যদি আপনার নিস্তেজ ত্বকে উজ্জ্বলতা আনতে চান, তাহলে রাতে ঘুমানোর আগে তুলো বল দিয়ে ভালো করে মুখে কাঁচা দুধ লাগান। এরপর পাঁচ মিনিট ম্যাসাজ করে সারারাত রেখে দিন। সকালে মুখ ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিনের মধ্যেই আপনি পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারবেন।

ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে

ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে চাইলে কাঁচা দুধের সাহায্যে স্ক্রাবার তৈরি করুন। এর জন্য ৩ টেবিল চামচ কাঁচা দুধে এক চামচ বেসন ও এক চামচ চিনি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দিয়ে ঘাড় থেকে মুখে দুই থেকে তিন মিনিট স্ক্রাব করুন। এরপর এভাবে প্রায় ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুবার এই কাঁচা দুধের স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে।

আইএ

Back to top button