দক্ষিণ এশিয়া

যোশিমঠের ৭০০ বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে

নয়াদিল্লি, ১০ জানুয়ারি – ভারতের উত্তরাখণ্ডের যোশিমঠে বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হচ্ছে। প্রথমে ভাঙা হবে বিপজ্জনক হোটেলগুলো। মঙ্গলবার যোশিমঠ পরিদর্শনে যাচ্ছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি দল।

সেন্ট্রাল বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিবিআরআই) তত্ত্বাবধানে বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হবে। গতকাল (সোমবার) জোশিমঠ পরিদর্শন করেছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি দল। পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছেন ভূবিজ্ঞানীরা। জোশিমঠের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেওয়ার পাশাপাশি সুপারিশ দেবেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জোশিমঠের আসন্ন বিপদ সম্পর্কে অনেক আগেই সতর্ক করেছিলেন ভূবিজ্ঞানীরা। যদিও তাদের সতর্কবার্তায় আমল দেওয়া হয়নি।

যোশিমঠ নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে নয়াদিল্লিতে। ইতোমধ্যেই যোশিমঠ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত ৮০টির বেশি পরিবারকে সরানো হয়েছে। আরও ৯০টি পরিবারকে সরানোর কাজ চলছে। প্রায় ৭০০ বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সেখানে দেশটির জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সেনারা গেছেন।

একই সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন ন্যাশনাল ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি। তবে উদ্ধারকাজে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবল শৈত্য প্রবাহ। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় উদ্ধারকাজের গতি কমে আসছে।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেছেন, সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে আপাতত সবচেয়ে বিপজ্জনক বাড়িগুলো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

গত রোববার উত্তরাখণ্ডের মন্দিরনগরী যোশিমঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চল বলে ঘোষণা করে প্রশাসন। জানা গেছে, যোশিমঠের সাম্প্রতিকতম বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথও। উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার যোশিমঠ-মালারি বর্ডার রোড চলে গেছে চীন সীমান্তে। সীমান্তগামী সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের একাধিক জায়গায় দেখা দিয়েছে ধস। ফলে, এই সড়কপথের বহু জায়গাতেই বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট
আইএ/ ১০ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button