জাতীয়

‘চীনে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারে কথা হয়েছে’

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি – চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যে অনেকদিন পার হয়ে গেছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কিন গ্যাংয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি তাকে মনে করিয়ে দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছি।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা ৭ মিনিটে শুরু হওয়া ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআপি লাউঞ্জে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন।

ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা করোনা টিকার জন্য উনাদের ধন্যবাদ দিয়েছি। আমরা চীনের রপ্তানি করি ৮০০ মিলিয়ন টাকার পণ্য, আমদানি করি ১৩ বিলিয়ন টাকার পণ্য। এটা রীতিমত একপেশে হয়ে যাচ্ছে। বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য ৯৮ শতাংশ পণ্যে শুল্ক ফ্রি ও কোটা ফ্রি দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে চীন। কিন্তু গেজেটটা হয়নি বলে আমাদের ব্যবসায়ীরা সেই সুবিধা পাচ্ছে না। আমি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে, এতে আমাদের সুবিধা হবে।

আফ্রিকার পাঁচ দেশ সফরের যাওয়া পথে চীনের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং বাংলাদেশে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতে ঢাকায় নামেন। সোমবার (৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ২ টার দিকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেন। সেখানে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুশল বিনিময়ের পর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে বৈঠকে বসেন তারা। এক ঘণ্টার মত সেখানে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক চলে।

ড. মোমেন বলেন, আমি তাকে বলেছি, আমাদের বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করেছেন, যেমন-পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল। আপনারা আমাদের উন্নয়ন অংশীদার।

তিনি বলেন, আমরা এক চায়নাকে বিশ্বাস করি। এটা আমাদের মূলনীতি। আমাদের সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। সুতরাং আমরা আপনাদের (চীনকে) টাইম টু টাইম সাপোর্ট দেব।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সবশেষ ২০১৬ সালে ঢাকা সফর করেন। চীনা প্রেসিডেন্টের সেই সফরে ঢাকার সঙ্গে বেইজিং বেশ কয়েকটি চুক্তি করলেও এর মধ্যে অনেকগুলোই বাস্তবায়ন হয়নি। বিষয়টি নতুন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন আব্দুল মোমেন।

কিন গ্যাং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান মোমেন। তিনি বলেন, তিনি দাওয়াত দিয়েছেন যাওয়ার জন্য। আমি বলেছি, আপনি অল্পসময়ের জন্য নয়, রেগুলার আসেন। তখন আমরা আমাদের একাধিক বিষয়ে আলাপ করতে পারব।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, করোনাকালে সহযোগিতা, রোহিঙ্গা ইস্যু, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।

ঘণ্টাখানেকের যাত্রাবিরতিতে চলা এই বৈঠক শেষে দিবাগত রাত ৩ টার দিকে আফ্রিকার উদ্যেশ্যে ঢাকা ছাড়েন কিন গ্যাং। এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন তাকে বিদায় জানান।

ইথিওপিয়াসহ আফ্রিকার পাঁচ দেশ সফরে যাচ্ছেন চীনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সফরে যাত্রাবিরতি করতে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন গ্যাং। সদ্য শেষ হওয়া বছরের দুই দিন আগে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান গ্যাং। দায়িত্ব পাওয়ার পর আফ্রিকায় প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তিনি।

সবশেষ গত বছরের আগস্টে ঢাকা সফর করেছিলেন চীনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

সূত্র: আরটিভি নিউজ
আইএ/ ১০ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button