ইউরোপ

মা ডায়ানার মৃত্যুর পর একবারই কেঁদেছিলেন হ্যারি

লন্ডন, ০৮ জানুয়ারি – ব্রিটিশ রাজপরিবার ছেড়ে আসা প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘স্পেয়ার’ প্রকাশিত হওয়ার আগেই বইটি থেকে একের পর এক চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার জানা গেল, ১৯৯৭ সালে হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুতে পুরো দুনিয়া শোকাহত হলেও তিনি কেবল একবারই কেঁদেছিলেন।

প্রিন্স হ্যারির বহুল প্রত্যাশিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘স্পেয়ার‘ আগামী ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। এ বইটির প্রচারণামূলক এক সাক্ষাৎকারে মায়ের মৃত্যু নিয়ে এসব তথ্য জানান ডিউক অব সাসেক্স। খবর বিবিসির

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রচারণামূলক সাক্ষাৎকারটিতে ডায়ানার মৃত্যু পরবর্তী ভিডিও ফুটেজ দেখে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন হ্যারি।

সাক্ষাৎকারে হ্যারি জানান, ১৯৯৭ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় মা ডায়ানার মৃত্যুতে শুধুমাত্র একবারই কাঁদতে পেরেছিলেন তিনি। তিনি এবং তার ভাই প্রিন্স উইলিয়াম জনসমক্ষে শোকার্ত লোকজনের সঙ্গে দেখা করার সময় কোনো আবেগ প্রকাশ করতে পারেন নি।

প্রিন্স হ্যারি বলেন, ‘আমি মায়ের সমাধিতে একবারের জন্য কেঁদেছি এবং সেটি কত অদ্ভুত ছিল। এজন্য কিছুটা অপরাধবোধ আমার ভেতরে কীভাবে কাজ করেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত (স্পেয়ারে) লিখেছি।’

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় কেনসিংটন প্রাসাদের বাইরে হেঁটে যাওয়ার সময় উইলিয়ামেরও একই অনুভূতি হয়েছে।

সাসেক্সের ডিউক জানান, মায়ের মৃত্যুর পর জনসম্মুখে তিনি ও তার ভাই উইলিয়াম আবেগপ্রকাশে অক্ষম ছিলেন। এ নিয়ে তার মধ্যে ‘কিছু অপরাধবোধ’ও রয়েছে।

হ্যারি বলেন, ‘আমাদের মায়ের কাছে ৫০ হাজার ফুলের তোড়া ছিল। আমরা সমবেত মানুষের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলাম। হাসছিলাম…যাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছিলাম, তাদের হাত ভেজা ছিল। তাদের হাত কেন ভেজা ছিল বুঝতে পারিনি। আসলে চোখের পানিতে তাদের হাত ভিজে গিয়েছিল।’

‘সবাই আমার মায়ের কাছের মানুষ বলে বোধ করেছিল। তবে আমার মায়ের সবচেয়ে কাছের দুজন, সবচেয়ে ভালোবাসার দুজন সেই মুহূর্তে কোনো আবেগ প্রকাশ করতে পারেনি,’ যোগ করেন হ্যারি।

প্রিন্স হ্যারি আরও জনান, তার বাবা তাকে মায়ের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়ার সময় কোনোরকম সান্ত্বনা দেননি। আইটিভিতে দেওয়া প্রিন্স হ্যারির সাক্ষাৎকারটি রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনীটি গত বৃহস্পতিবার স্পেনে প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই স্পেয়ার নিয়ে চর্চা চলছে। এই বইটির একটি কপি হাতে আসার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সংবাদমাধ্যটি বইটি অনুবাদের কাজ করছে বলেও জানিয়েছে।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/০৮ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button