জাতীয়

হুম্মামকে দেশ ছাড়তে বললেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী

চট্টগ্রাম, ০৬ জানুয়ারি – একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে দেশ ছেড়ে যেতে বলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

আজ শুক্রবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নগরের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এই চট্টগ্রামের কুখ্যাত রাজাকার সাকা চৌধুরীর ছেলে বলল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নাকি সাকার কবরে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। হে সাকাপুত্র, তুমি এখান থেকে চলে যাও। এ দেশ তোমার না। পৃথিবীর অনেক দেশের চাপ সত্ত্বেও সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আমি নিজেও বিশ্বাস করতে পারিনি সাকা চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হবে।’

গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়ার পর একা বাড়ি ফিরতে পারবেন না। সকল শহীদদের কবরে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হবে।’ এর প্রতিবাদে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন।

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে ‘ধর্মান্ধতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন’ মন্তব্য করে সম্মেলনে শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে এনে এখানে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জিয়া। পরে এইচ এম এরশাদ ও খালেদা জিয়া ২৫ বছর ধরে এ দেশে ধর্মান্ধতা প্রতিষ্ঠা করেন। এ দেশ কাজী নজরুল ইসলামের, লালনের। এ দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোনো জায়গা থাকতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দেশে চলবে না। আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে আমরা অনেক দূরে চলে গেছি। রাষ্ট্রধর্ম সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকতে পারে না। কয়েকদিন আগে আইনমন্ত্রী বলেছেন, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম সরানো হবে। আমরা সেদিকে তাকিয়ে আছি। অপেক্ষায় আছি, কবে বাহাত্তরের সংবিধান পুরোপুরি কায়েম হবে।’

শুক্রবার বেলা ১১টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিক। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি পরিমল চৌধুরী। বক্তব্য দেন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক নিতাই প্রসাদ ঘোষ। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিনবোধি ভিক্ষু, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শুভ্র দেব কর, সংগঠনের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি ইন্দু নন্দন দত্ত, দক্ষিণ জেলার সভাপতি তাপস হোড়।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/০৬ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button