উত্তর আমেরিকা

‘এল চাপোর’ ছেলেকে গ্রেপ্তারের পর মেক্সিকোয় প্রাণঘাতী দাঙ্গা

মেক্সিকো সিটি, ০৬ জানুয়ারি – মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ বন্দী মাদক পাচারকারী জোয়াকিন ‘এল চ্যাপো’ গুজমানের ছেলে ওভিডিও গুজম্যান লোপেজকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করার পর পর দেশটির ইসিনালোয়া প্রদেশের কুলিয়াকান শহরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সিনালোয়া রাজ্যে দাঙ্গায় এই পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার অভিদিও গুজমানকে গ্রেপ্তারের পর তার দলের সদস্যরা রাস্তা অবরোধ করে যানবাহনে আগুন লাগিয়ে দেয়, পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এমনকি স্থানীয় একটি বিমানবন্দরেও হামলা চালায়।

বিবিসি জানিয়েছে, সিনালোয়া রাজ্যের একটি বিমানবন্দরে উড্ডয়নের আগ মুহূর্তে একটি যাত্রীবাহী বিমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনার পর সিনালোয়া রাজ্যের তিনটি বিমান বন্দরের শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

সিনালোয়া রাজ্যের গভর্নর জানিয়েছেন, ১৮ জন বেসামরিক নাগরিককে আহত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিনালোয়া রাজ্যের কুলিয়াকান শহরের মেয়র রুবেন রোচা মোয়া টুইটে জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কুলিয়াকানে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে সেনাসদস্যরা। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড দেয়ায় সাধারণ নাগরিকদের ঘর থেকে বের না হতে আহ্বান জানান তিনি। এছড়াও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর শহরটির স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের অক্টোবরে মেক্সিকান নিরাপত্তা বাহিনী এল চ্যাপোকে গ্রেপ্তার করে। ‘এল চাপো’ গুজমান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আছেন। সেখানে মাদক চোরাচালান ও অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। ওভিডিও তার বাবার গ্রেপ্তারের পর সিনালোয়া কার্টেলের (মাদক চেরাচলান গোষ্ঠী) একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।

মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুইস ক্রেসেনসিও বলেছেন, গুজমানের নিয়ন্ত্রণাধীন মাদক সাম্রাজ্যটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাদক চোরাচালানকারী প্রতিষ্ঠান। গ্রেপ্তারের আগে তার ওপর ছয় মাস নজরদারি চালায় আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

ক্রেসেনসিও আরও জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তারাও ওভিডিও গুজমানের ওপর নজর রাখছিলেন। তাদের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে রাজধানী মেক্সিকো সিটির একটি সুরক্ষিত কারাগারে রাখা হয়েছে।

এদিকে আগামী সপ্তাহে নর্থ আমেরিকান লিডার্স সম্মেলনে যোগ দিতে মেক্সিকোতে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার সফরের আগেই ওভিডিওকে আটক করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে নতুন এই মাদক সম্রাটকে আটক করতে মেক্সিকোকে চাপ দিয়ে আসছিল। কারণ তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবাধে প্রবেশ করছিল বিভিন্ন মাদক।

উল্লেখ্য, এরআগে ২০১৯ সালেও অভিদিও গুজমানকে আটক করেছিল মেক্সিকো। কিন্তু সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় ও হুমকি দেয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৬ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button