সিলেট

সিলেটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এখলাছ

সিলেট, ১০ অক্টোবর- সিলেটের সরদারগাও এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের বিস্তর বর্ণনা দিয়েছে গ্রেফতারকৃত এখলাছ মিয়া। সেই সাথে ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে তা জবানবন্দিতে উল্লেখ করার পাশাপাশি তাদের দুজনের মধ্যে কার কি ভূমিকা ছিল তা বর্ণনা করেন এখলাছ। এসময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

শুক্রবার ২ দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার ওসি তদন্ত আদালতে জসিম উদ্দিন ও এখলাছ মিয়াকে বেলা ২টার দিকে হাজির করেন। ওইদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধর্ষণের সহযোগীতাকারী এখলাছ মিয়া সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। এসময় আদালত আসামী এখলাছ মিয়াকে রিপ্রেশমেন্টের জন্য ৩ঘণ্টা সময় দেন। এরপর প্রায় ৩০মিনিট জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আদালতের বিচারক জসিম উদ্দিন ও এখলাছ মিয়াকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: সিলেটে বাসের চাকা ফেটে দুর্ঘটনা, নিহত ২

জবানবন্দিতে এখলাছ মিয়া বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে স্কুলছাত্রীর সাথে দেখা করতে আসে এক যুবক। বিষয়টি তারা দেখতে পান। এসময় তারা এগিয়ে গেলে যুবকটি পালিয়ে যায়। তাকে তারা চিনেন না। পরে স্কুলছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে জসিম। পরে ধর্ষণ করার কথা ছিলো এখলাছকে। জসিম ধর্ষণ করার সময় আমি (এখলাছ) পাহারা দিয়েছি। আমি ধর্ষণ করার আগে স্কুলছাত্রী এক মামা এগিয়ে এলে আমরা পালিয়ে যাই।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, স্কুলছাত্রীর পিতা মামলার এজহারে যে অভিযোগ করেছেন সেইভাবে এখলাছ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া ধর্ষিত স্কুলছাত্রী আদালতে দেয়া ২২ ধারা জবানবন্দিতে জসিম ও এখলাছের ভূমিকা নিয়ে যেসব তথ্য দিয়েছেন সেই রকম তথ্য আদালতে দিয়েছে এখলাছ। মূলত স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে জসিম। এখলাছ পাহারা দিয়েছে। জসিমের পর এখলাছের ধর্ষণ করার কথা থাকলে সে পারেনি ওই কিশোরীর মামার জন্য।

সূত্র জানায়, স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় পিতা বাদী হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ থানায় দু’জনকে আসামী করে মামলা নং-৮ দায়ের করেন। মামলার ১৯ দিন পর গত ৪ অক্টোবর ভোরে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে জসিম উদ্দিনকে সুনামগঞ্জের আক্তাপাড়া এলাকা থেকে ও এখলাছ মিয়া সিলেট শহরতলীর কালাপাহাড় এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের প্রত্যেকের ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করলে শুনানী শেষে দুদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলা।

সূত্র : সিলেটভিউ
এন এইচ, ১০ অক্টোবর

Back to top button