দক্ষিণ এশিয়া

মোদী সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক

নয়াদিল্লি, ০২ জানুয়ারি – ২০১৬ সালে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ ও সঠিক। সোমবার (২ জানুয়ারি) স্পষ্টভাবে এ কথা জানিয়ে দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ৪-১ রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক বলে আদালতের সিলমোহর পড়েছে।

বিচারপতি এস আব্দুল নাজির, বি আর গবাই, এ এস বোপান্না, ভি রামা সুব্রামনিয়াম, বি ভি নাগরত্না- নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চের চার সদস্যই সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

একমাত্র নারী বিচারপতি বি ভি নাগরত্নার অভিমত ছিল, কেন্দ্র সরকারের নোট বাতিলের এ সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল রিজার্ভ ব্যাংকে অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই)। এক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার ছিল না।

এদিকে, নোট বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে যেসব পিটিশন জমা পড়েছিল, শীর্ষ আদালত সেগুলো খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চের অভিমত, ভারত সরকারের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল ছিল না। আর সেজন্যই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন শীর্ষ আদালত।

শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, নোট বাতিলের জন্য আরবিআইয়ের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই। কেন্দ্র সরকার ও আরবিআইয়ের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পরেই নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক নীতি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত আর বদলানো যাবে না।

২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করে। এরপর নতুন ৫০০ ও ২০০০ রুপির নোট চালু করা হয় ও ১০০০ রুপির নোট পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়। নোট বাতিল ঘোষণার পর গোটা দেশে তোলপাড় ‍শুরু হয়।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিজেপির বিরোধীদলগুলোর মধ্যে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। এর নেপথ্যে বড়সড় চক্রান্ত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।

জানা যায়, নোট বাতিলের আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে মোট ৫৮ টি পিটিশন জমা পড়ে। সেগুলোতে দাবি করা হয়েছিল, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

পিটিশনগুলোতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের ফলে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাই অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, নোট বাতিলের এ সিদ্ধান্ত বাতিল করলে সময়ের পিছনে হাঁটতে হবে।

শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত, এ সম্পর্কিত বৈঠকের রেকর্ড ও আরবিআইয়ের আইনে দেওয়া প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না তাও কেন্দ্রীয় সরকারকে জানাতে বলা হয়েছিল।

জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তি দিয়েছিল, সন্ত্রাসবাদে অর্থের যোগান, কালো রুপি ও করফাঁকির মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলার করার জন্য নোট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো রুপি বাতিল করলে দেশের অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা আসবে ও বিদেশে গচ্ছিত কালো রুপি ফেরত আসবে।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ০২ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button