পশ্চিমবঙ্গ

বিরোধী থাকাকালীন কোনো ধ্বংসাত্মক কাজ করিনি

কলকাতা, ০২ জানুয়ারি – সামনেই পশ্চিবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচন। সে নির্বাচন ঘিরে রাজ্যজুড়ে বেশ উত্তেজনা কাজ করছে। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

রাজ্য সরকারের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ঠিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে বছরের দ্বিতীয় দিনেই দিদির সুরক্ষা কবচ নামের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন তিনি।

জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় কাজ করা সদস্যরা রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে জানবেন, মুখ্যমন্ত্রীর দূতরা সরকারি প্রকল্পগুলো ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারছেন কি না।

কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে নজরুল মঞ্চে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জী বলেন, যদি পুরো ধানক্ষেতে একটি মাত্র পোকা জন্মায় ও সেটিকে সমূলে বিনাশ না করা হলে ক্ষেতের সব ধান নষ্ট করে ফেলে।

‘সুতরাং পোকাটিকে আগে নির্মূল করতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে যাতে, কোনোভাবেই পোকা না জন্মায়। মনে রাখবেন, আমি মানুষের উর্ধ্বে নই, পার্টির ঊর্ধ্বে নই। মানুষের জন্য আমার যেসব দায়বদ্ধতা রয়েছে, আমি সেগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেনে চলি।

এদিকে, মমতা আসলে কাকে ধানের পোকা বলেছেন, তা নিয়ে তার নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেই গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

বিভিন্ন সময়ে বিরোধীদের তোলা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আক্ষেপ করে মমতা বলেন, বিরোধীরা রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে, যে ধরনের কু কথা বলছেন, তা গোটা দেশের কোথাও হয় না।

দীর্ঘদিন রাজ্যে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে থাকলেও, কখনো ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করিনি। বরং গঠনমূলক রাজনীতি করেছি। জনগণের উন্নয়নে কাজ করে গেছি।’

কিছুটা হতাশার সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মা-মাটি-মানুষের সরকার ১১ বছর পূর্ণ করলো। তৃণমূল কংগ্রেসের বয়স ২৫ বছর হলো। দলের অনেক কর্মী-সমর্থককে হারিয়েছি।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই গুলি চলেছিল। কোচবিহার, শান্তিপুর, রাজারহাট, হাওড়া, বেহালায় গুলি চললো। সেসব দিন অনেক কষ্টে পার করেছি।

এদিকে, মমতা ব্যানার্জীর এ বক্তব্যের পাল্টা আক্রমণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতারা।

রাজ্যের সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী ব্যাঙ্গাত্মক সুরে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ঠিকই বলেছেন, ভারতবর্ষের কোথাও এত দুর্নীতি হয় না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যখন বিরোধীদের জিভ টেনে ছিড়ে ফেলার কথা বলতে পারেন, তখন রাজ্য সরকার দুর্নীতি করে না- এ কথাও তার মুখে মানায়।

একইভাবে বিজেপির মুখপাত্র শ্রমিক ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল যে দুর্নীতি করেছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের আগামী তিনটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে গেছে। তৃণমূল পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে, নতুন যে প্রকল্প নিয়েই আসুক না কেন, মানুষ তা আর গ্রহণ করবে না।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ০২ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button