ইউরোপ

এক রাতে রাশিয়ার ৪৫ ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইউক্রেনের

কিয়েভ, ০২ জানুয়ারি – এক রাতে রাশিয়ার ৪৫টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, শনিবার রাতে ভূপাতিত করা ড্রোনের সবগুলোই ইরানের নির্মিত শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। ইংরেজি নতুন বছরের শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলেও দাবি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর। অবশ্য এসব ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেকের বেশি ধ্বংস করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে কিয়েভ।

তবে ইউক্রেনের দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনে নতুন বছরের প্রথম দিন চালানো রুশ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টুইটার পোস্টে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিঙ্ক।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়াকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, এ যুদ্ধে ইউক্রেনের জয়লাভের বিকল্প নেই। পুতিনের নববর্ষের ভাষণের জবাবে ইউক্রেনের নেতা এ কথা বলেন। নববর্ষের প্রাক্কালে শনিবারও ইউক্রেন রাশিয়ার একের পর এক হামলার সাক্ষী হয়েছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ভালেরি জালুঝনি বলেছেন, তাঁদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনিবার রাশিয়ার ছোড়া ২০টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ১২টিই ভূপাতিত করেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় একের পর এক রুশ হামলা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে। মস্কো নিয়মিতই ইউক্রেনের বেসামরিক লক্ষ্যে আঘাত হানার কথা অস্বীকার করে আসছে। তবে পুতিন সম্প্রতি ইউক্রেনের সংবেদনশীল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন।

নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেছেন, শনিবার যারা হামলা চালিয়েছে, তারা অমানুষ। এর পর রুশ ভাষায় তিনি পুতিনকে কড়া আক্রমণ করেন। বলেন, ‘তিনি আপনাদের দেশ ও আপনাদের ভবিষ্যৎকে পুড়িয়ে দিচ্ছেন। সন্ত্রাসের জন্য কেউ আপনাদের ক্ষমা করবে না। বিশ্বের কেউ করবে না। ইউক্রেন আপনাদের ক্ষমা করবে না।’

এর আগে নববর্ষ উপলক্ষে সামরিক উর্দিতে সজ্জিত লোকজন আবৃত হয়ে ভাষণে পুতিন জনগণকে ইউক্রেনে লড়াইরত বাহিনীর পেছনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ছিল। যুদ্ধের মেজাজে পুতিন বলেন, ‘আমরা সব সময় জানতাম, আজ আরও একবার নিশ্চিত হলাম- একটি সার্বভৌম, স্বাধীন রাশিয়ার নিশ্চিত ভবিষ্যৎ কেবল আমাদের ওপর নির্ভর করছে, আমাদের শক্তি ও ইচ্ছার ওপর।’ পশ্চিমাদের উস্কানির কারণেই মস্কো গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সেনা পাঠিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভাষণে যুদ্ধক্ষেত্রে বিপর্যয় এবং নিজের সামরিক কৌশলের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ সমালোচনার বাস্তবতায় রুশ নাগরিকদের সমর্থন লাভের ওপর জোর দেন পুতিন। স্যুট ও টাই পরিহিত রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পিতৃভূমির প্রতিরক্ষা আমাদের পূর্বপুরুষ ও বংশধরদের কাছে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’ কিয়েভকে ব্যবহার করে পশ্চিমারা ‘রাশিয়াকে ধ্বংস’ করতে চায় বলেও দাবি করেন পুতিন। তবে এটি কখনও হতে দেওয়া হবে না বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে, চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ‘আসন্ন বছরটিতে আমরা অব্যাহতভাবে আপনাদের পাশে থাকব। একটি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এক সঙ্গে থাকব। ফ্রান্স ও ইউরোপের ওপর ভরসা রাখুন।’

এর আগে গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে যতদিন প্রয়োজন ইউক্রেনকে সহায়তার কথা জানিয়েছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা যা দেখছি তা হলো, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশের যুগে ফিরে আসা। তবে ফ্রান্স এটি প্রত্যাখ্যান করে শান্তির জন্য কাজ করে যাবে।’

সূত্র: সমকাল
আইএ/ ০২ জানুয়ারি ২০২৩

Back to top button