ফুটবল

সান্তোসে শেষবার ফিরছেন পেলে

ব্রাসিলিয়া, ২ জানুয়ারি – কাঁদছে ব্রাজিল। কাঁদছে ফুটবলবিশ্ব। কাঁদছে হয়তো সান্তোসের ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামও। এই মাঠের সঙ্গে মিতালি গড়ে সাধারণ থেকে কিংবদন্তি হয়েছেন পেলে।

মাঠের প্রতিটি কোণ, ঘাস আর মাটি সাক্ষী হয়ে আছে পেলের জাদুকরী সব মুহূর্তের। সেখানেই আজ শেষবার ফিরছেন ‘ও রেই’। হাসপাতাল থেকে আনা হবে ফুটবলসম্রাটের নিথর দেহ। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা শ্রদ্ধা জানাতে পারবে ভক্তরা।
ব্রাজিলের নানা শহর তো বটেই, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও ভক্তদের ভিড় এখন সান্তোসমুখী। আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধায় শেষবার প্রিয় তারকাকে বিদায় জানানোর প্রহর গুনছে সবাই। ব্রাজিলীয়রা নববর্ষ উদযাপনেও স্মরণ করেছে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র এই কিংবদন্তিকে। কোপাকাবানা বিচে নতুন বছর বরণের সবচেয়ে বড় আয়োজনে বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিনে পেলের ছবি আর ভিডিও দেখে পেলেকে স্মরণ করেছে তারা।

সান্তোসের ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে ভক্তদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে আগামীকাল শুরু হবে পেলের অন্তিমযাত্রা। সান্তোসের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে তা শেষ হবে নেক্রোপোল একুমেনিকাতে। ফুটবলসম্রাটকে সমাধিস্থ করা হবে সেখানেই। সেই অনুষ্ঠানে সাধারণের প্রবেশ নিষেধ, থাকতে পারবেন শুধু পরিবারের সদস্যরা।

পেলেকে শ্রদ্ধা জানাতে চিরতরে ১০ নম্বর জার্সিটা তুলে রাখতে পারে সান্তোস। ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস রুয়েদা জানিয়েছেন, ‘পেলের পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অনুরোধ জানানো হয়েছে। আমাদেরও ভাবনা আছে। এটা বোর্ড মিটিংয়ে তোলা হবে। সবাই সম্মত হলে ১০ নম্বর জার্সিটা তুলে রাখব আমরা। ’ কিন্তু শুধু সান্তোস চাইলেই হবে না। অনুমতি লাগবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন, কনমেবল আর ফিফারও। নইলে ২৩ জনের বদলে খেলতে হবে ২২ জনের স্কোয়াড নিয়ে।

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকো অবশ্য জার্সি তুলে রাখার ব্যাপারটা সমর্থন করছেন না। পেলের এই ভক্ত ফুটবলের স্বার্থেই ১০ নম্বর জার্সিটা পরতে দেখতে চান সান্তোসের কোনো তরুণের গায়ে, ‘আমি সব সময় এ রকম সিদ্ধান্তের বিপক্ষে। কারণ ১০ নম্বর জার্সি একজন স্ট্রাইকারের কাছে গর্বের প্রতীক। এই জার্সি গায়ে খেলতে পারা সবার জন্য গৌরবের। সেটা প্রমাণ করে দলে তাঁর গুরুত্ব। আশা করব, সান্তোস তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। ’

এদিকে ইংলিশ দৈনিক ডেইলি মেইলে গতকাল পেলেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ কলাম লিখেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক গ্যারি ফ্রান্সিস। পেলেকে সর্বকালের সেরার আখ্যা দিয়েছেন তিনি, ‘১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের খেলা দেখে তাঁর ভক্ত হয়ে যাই। ইংল্যান্ডের নেতৃত্ব পাওয়া আমার সেরা অর্জন হলে দ্বিতীয় সেরা হচ্ছে পেলের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলা। ১৯৭৬ সালে সেই প্রীতি ম্যাচের সময় পেলের বয়স ছিল ৩৫ বছর। তবু আমাদের গোলরক্ষককে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিলেন তিনি। ৫০ বছরের খেলোয়াড় ও কোচিং জীবনে অনেক কিংবদন্তি দেখেছি আমি। আমার কাছে পেলেই সেরাদের সেরা। ’

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ২ জানুয়ারি ২০২২

Back to top button