জাতীয়

মেট্রোরেল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রগামী সৈনিক কামরুল ইসলাম সিদ্দিক

ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর – বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে তিনি একজন ভ্যানগার্ড বা অগ্রগামী সৈনিক। তাকে বলা হয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপকার। গ্রামীণ সড়কব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা এই ব্যক্তিত্ব আরও একটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। রাজধানীর সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে আজকের বহুল আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্প পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম সিদ্দিক।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের প্রথম দিকের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক গ্রামীণ ও সড়কব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধন করার পর রাজধানীর মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে অবদান রেখেছেন। কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) ঢাকার জন্য প্রথমবারের মতো মেট্রোরেল নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। ২০০৫ থেকে ২০২৫ সাল মেয়াদী এ পরিকল্পনায় তিনটি মেট্রোরেল নির্মাণের সুপারিশ করা হয়, যার একটি উদ্বোধন হয়েছে গত ২৮ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এই মেট্রোরেলে চড়ে উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের এসটিপি তৈরি করেছিল ঢাকা পরিবহন সমম্বয় বোর্ড (ডিটিসিবি)। ডিটিসিবি’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে এসটিপি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক।

১৯৬৭ সালে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৭১ সালে দেশের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি একইসঙ্গে দুটি মহান কাজ করেছেন। প্রথমত, পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধকালীন বিভিন্ন রাস্তা ও সেতুর নকশা তৈরি এবং বাস্তবায়ন করে সহযোদ্ধাদের বিভিন্ন অপারেশনে প্রকৌশলী হিসেবেও ভূমিকা রেখেছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে কামরুল ইসলাম সিদ্দিক পল্লী কর্মসূচির উপপ্রধান প্রকৌশলী এবং পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর নির্মাণ কর্মসূচির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৮৪ সালে মন্ত্রণালয়ের ওয়ার্কস প্রোগ্রাম উইংকে প্রকৌশল ব্যুরোর রূপ দেওয়া হলে এর কার্যক্রমে তিনি ব্যাপক সংস্কার আনেন। এই সংস্কারের ধারাবাহিকতাতেই ১৯৯২ সালের আগস্টে এলজিইবি রূপ নেয় এলজিইডিতে। সেসময় সংস্থাটির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। তার হাত ধরেই দেশের গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসে। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন।

কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা পরিবহন সমম্বয় বোর্ডে (ডিটিসিবি) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ২০০৩ সালের ১২ মে যোগ দেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। সেখানে তিনি এসটিপি প্রণয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ বিষয়ে তারই সহকর্মী সেসময়ের সংস্থাটির অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম এম সালেহউদ্দিন বলেন, এসটিপিতে ঢাকার জন্য ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা এমআরটি ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি অন্তর্ভুক্ত করতে যে ক’জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম কামরুল ইসলাম স্যার। তিনি একজন কর্মবীর ও মেধাবী মানুষ। তিনি ঢাকার জন্য এমন একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন যাতে একসঙ্গে অনেক মানুষকে সেবা দিতে পারে।

কামরুল ইসলাম সিদ্দিককে স্মরণ করে ড. এম এম সালেহউদ্দিন বলেন, তিনি অতুলনীয়। তিনি সবসময় কর্মতৎপর ছিলেন। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগেও তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছিল। তিনি আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে গ্রামীণ যোগাযোগের পাশাপাশি নগরের অবকাঠামো উন্নয়নেও বেশি ভূমিকা রাখতে পারতেন।

সূত্র: আরটিভি
এম ইউ/৩১ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button