দক্ষিণ এশিয়া

এক রত্নগর্ভার জীবনাবসান, কে ছিলেন এই হীরাবেন মোদী?

নয়াদিল্লি, ৩০ ডিসেম্বর – সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় করেছেন সন্তানদের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তৈরির কারিগর।

চিকিৎসকদের সব লড়াই শেষ। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা হীরাবেন মোদী। বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর), বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে তাঁকে আমেদাবাদের ইউএম মেহতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হীরাবেন মোদী। শেষ হল এক রত্নগর্ভার জীবন। যে কোনও কাজের আগেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে দেখা যেত তাঁর মায়ের আশীর্বাদ নিতে। সদ্য সমাপ্ত গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও ভোট দিতে গিয়ে গান্ধীনগরে মায়ের আশীর্বাদ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই সুযোগ পাবেন না তিনি। প্রয়াত হীরাবেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আমেদাবাদে রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীদেরই বিশাল সমাগম আশা করা হচ্ছে।

কথায় বলে প্রত্যেক সফল পুরুষের পিছনে এক নারীর অবদান থাকে। নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রে এই নারীর নাম হীরাবেন দামোদরদাস মোদী। ১৯২৩ সালের ১৮ জুন গুজরাটের মেহসানা জেলার বিসানগরের এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। বিসানগরের দীপদা দরওয়াজায় ছিল তাঁদের আদি বাড়ি। কয়েক বছর আগে পারিবারিক বাড়িটি বিক্রি করে গান্ধীনগরে এক নতুন বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে ছোট ছেলে পঙ্কজ মোদীর সঙ্গে গান্ধীনগরের এই বাড়িতেই থাকতেন তিনি। বয়স ১০০ পেরোলেও, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সচল ছিলেন হীরাবেন মোদী। বাড়িতে কারোর সাহায্য ছাড়াই হাঁটাচলা করা এবং বাড়ির সব কাজ করতেন। শেষ বয়স পর্যন্ত গণতন্ত্রের উৎসবে অংশ নিতেন তিনি। ২০২২ সালের গুজরাট নির্বাচনেও হুইল চেয়ারে করে ভোট দিতে এসেছিলেন তিনি।

একেবারে সাধারণ জীবন যাপন করতেন হীরাবেন। ছেলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বেশিরভাগই তিনি বাড়িতে রান্না করা খাবার খেতেন। খিচুড়ি, ডাল, ভাত খেতে পছন্দ করতেন। লপসি খুবই পছন্দ ছিল। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন হীরাবেনের ১০০তম জন্মদিনে তাঁর আশীর্বাদ নিতে এসেছিলেন, তখন তাঁ জন্য লপসি নিয়ে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী যখনই হীরাবেনের সঙ্গে আহার করতেন, তাঁকে রুটি, সবজি, ডাল, ভাত, স্যালাডের মতো সাধারণ খাবার খেতে দেখা যেত। তবে, হীরাবেনের বিশেষ পছন্দ ছিল আইসক্রিম। নিজে স্কুলশিক্ষার সুযোগ না পেলেও, তাঁর সন্তানরা যাতে পড়াশোনার উপযুক্ত সুযোগ পান, সেটা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। বাড়িতে-বাড়িতে এবং চায়ের দোকানগুলিতে দুধ সরবরাহ করে সংসার চালাতেন তিনি। অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর সন্তানদের বড় করেছিলেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় শিশুদেরও নিজের উদ্যোগে পড়াশোনা শেখাতেন হীরাবেন মোদী।

নিজের কাজের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর কাছে দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছিলেন হিরাবেন মোদী। কোভিড-১৯ মহামারির সময়, যখন দেশে প্রথম টিকা বের হয়েছিল, সেই সময় টিকা গ্রহণ করা নিয়ে বিভ্রান্ত ছিল সাধারণ মানুষ। টিকা নিয়ে অনেক অপপ্রচারও হয়েছিল। অথচ, দেশের মহামারি মোকাবিলার জন্য টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর ম হিসেবে নিজেই টিকা নিয়ে সমাজের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন হীরাবেন মোদী। তিনি টিকা নেওয়ায় বহু মানুষের টিকা গ্রহণ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়েছিল, ভয় কেটে গিয়েছিল।

সূত্র: টিভি নাইন
আইএ/ ৩০ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button