মিডিয়া

তারেক রহমানের প্রকাশনায় চলা দৈনিক দিনকালের প্রকাশনা বাতিল

ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর – বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রকাশনায় চলা দৈনিক দিনকাল পত্রিকাটির প্রকাশনার অনুমোদন বাতিল করে দিয়েছে সরকার। ফলে পত্রিকাটির প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সন-দুটোই এখন বন্ধ আছে।

পত্রিকাটির সম্পাদক ডঃ রেজোয়ান সিদ্দিকী জানিয়েছেন সরকারের চিঠি পাওয়ার পর তারা পত্রিকাটির প্রিন্ট প্রকাশনা ও অনলাইন ভার্সন দুটোই বন্ধ রেখেছেন।

প্রায় ৩৪ বছর আগে প্রকাশনা শুরু হওয়া দৈনিক দিনকালের মুল প্রকাশক ছিলেন বিএনপিরই একজন নেতা মাজেদুর রহমান।

মিস্টার রহমানের কাছ থেকে ২০০২ সালের ১৬ই এপ্রিল পত্রিকাটির প্রকাশক ও মুদ্রাকরের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তারেক রহমান।

পত্রিকাটি বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত।

কী কারণে প্রকাশনার অনুমোদন বাতিল করলো কর্তৃপক্ষ
ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের প্রকাশনা শাখা থেকে ২৬শে ডিসেম্বর যে চিঠি দিনকাল অফিসে পাঠানো হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, “পত্রিকাটির প্রকাশক কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করায়, ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অফিসের ঠিকানা ও ছাপাখানা পরিবর্তন করায় তারেক রহমানের নামে পত্রিকা মুদ্রণের যে ঘোষণাপত্র দেয়া হয়েছিলো তা বাতিল করা হলো”।

মিস্টার রহমানের নামে প্রকাশক হিসেবে ঘোষণাপত্র ২০০২ সালের ১৬ই এপ্রিল দেয়া হয়েছিলো। তিনি ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থান করছেন।

এর মধ্যে একুশে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিও দিয়েছে আদালত। বিএনপি অবশ্য এ রায় প্রত্যাখ্যান করে একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যায়িত করেছিলো।

যদিও পরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া একটি দুর্নীতি মামলায় আদালতে রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তার দল বিএনপি তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন পত্রিকার প্রকাশক তিন মাসের বেশি সময়ের জন্য দেশ ছেড়ে গেলে কাউকে জেলা প্রশাসকের সামনে বসে দায়িত্ব হস্তান্তর করার আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে কিন্তু মিস্টার রহমান সেটি করেননি।

এছাড়া আইন অনুযায়ী আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত কারও পত্রিকার প্রকাশক ও মুদ্রাকর হওয়ার সুযোগ থাকেনা।

তবে প্রকাশনা বাতিলের আগে এসব বিষয় উল্লেখ করে আগে দু দফা নোটিশ দৈনিক দিনকাল কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে।

দিনকাল সম্পাদক যা বললেন
সম্পাদক ডঃ রেজোয়ান সিদ্দিকী  বলেছেন এর আগে যেসব নোটিশ তাদেরকে দেয়া হয়েছে তার জবাব তারা কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন।

তার দাবি তারেক রহমান প্রকাশকের দায়িত্ব বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানকে দিয়ে আইনি ডকুমেন্টস ব্রিটেনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দিয়েছে অনেক আগেই।

“আমরা কর্তৃপক্ষকে আগেও জানিয়েছি এবং এবারেও বলেছি যে নিয়মানুযায়ী কাগজপত্র তারেক রহমান হাইকমিশনে দিয়েছেন। সেসব কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো তাদের দায়িত্ব। তবে যে রিসিভ কপি হাইকমিশন থেকে দেয়া হয়েছে আমরা সেটা এখানে দেখিয়েছি। কিন্তু তারা এগুলো আমলে নিতে রাজী নন এবং তারা বলছেন কাগজপত্র তাদের কাছে জমা দিতে হবে,” বলছিলেন মিস্টার সিদ্দিকী।

তিনি জানান সরকারের তরফ থেকে প্রথমে নোটিশ এসেছিলো ২০১৬ সালে এবং দ্বিতীয় নোটিশ এসেছিলো ২০১৯ সালে।

দুবারই তারা একই জবাব দিয়েছেন এবং ব্রিটেনে হাইকমিশনে দেয়া ডকুমেন্টস এর রিসিভ কপি তারা জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

“আমরা পরিষ্কার বলেছি কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে হাইকমিশনে। এখন সেটি যথাযথ দপ্তরে পাঠানো সরকারের কাজ,” বলছিলেন মিস্টার সিদ্দিকী।

তিনি জানান তারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন করেছেন যাতে পত্রিকাটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের মানবিক দিকটি বিবেচনা করে প্রকাশনা চালু রাখার অনুমতি দেয়া হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা
আইএ/ ২৯ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button