জাতীয়

ছয়টি মেট্রোরেলের টার্গেট ২০৩০ সাল

তাওহীদুল ইসলাম

ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর – ঢাকা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি মেট্রোরেলের মাধ্যমে একটি যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর একটি উত্তরা থেকে মতিঝিল হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত, যার একাংশ আজ চালু হতে যাচ্ছে। ছয়টি মেট্রোরেল লাইন চালু হলে দৈনিক ৫০ লাখ যাত্রী পরিবহন করা যাবে। কমবে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ।

আজ চালু হতে যাওয়া মেট্রোরেলের উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে রয়েছে ৯ স্টেশন। এমআরটি লাইন-৬ নামের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে মতিঝিল হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত। থাকবে ১৭ স্টেশন। কেবল মতিঝিল পর্যন্ত ট্রেন পৌঁছবে ৩৮ মিনিটে। ভাড়া লাগবে ১০০ টাকা। এমআরটি ৬-এর কাজ চলছে ৮টি প্যাকেজে। প্যাকেজ ১-এর আওতায় ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ। নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস আগে প্যাকেজের শতভাগ কাজ হয়েছে। ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্যাকেজ ২-এর অধীনে। প্যাকেজ-৩ ও ৪ মানে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন করা হয়েছে। এই আগারগাঁও পর্যন্ত ট্রেন চলবে এখন থেকে। পরে আগামী বছরের শেষ দিকে শেষ হবে মতিঝিল পর্যন্ত।

প্যাকেজ ৫-এর অধীনে আগারগাঁও থেকে কারওয়ানবাজার পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও তিনটি স্টেশন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফামর্গেট ও কারওয়ানবাজার স্টেশনে রুফ শিট স্থাপন শেষ। বিজয় সরণিতে রুফ শিটের কাজ চলমান। প্যাকেজ ৬-এর অধীনে কারওয়ানবাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও চারটি স্টেশন নির্মাণকাজ চলছে। ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেমের কাজ চলছে ৭ নম্বর প্যাকেজের অধীনে। প্যাকেজ ৮-এর আওতায় রেল কোচ ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে এর বাস্তব কাজ শুরু হয়। ২৪টি ট্রেনের মধ্যে ১৯টি ট্রেন সেট ইতোমধ্যে উত্তরা ডিপোতে পৌঁছেছে।

মেট্রোরেল লাইন-৬ পুরোপুরি চালু হলে দৈনিক চার লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে বলে জানিয়েছে ডিএমটিসিএল। এ লাইনটি পুরোপুরি চালু হলে ঢাকায় কার্বন নিঃসরণ দুই লাখ টনের মতো কমবে। লাইন ৬-এর পর কাজ শুরু হবে লাইন ১-এর। এই লাইনে দুটি পথ। প্রথমটি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত। এটি পুরোপুরি পাতালপথে হবে। দ্বিতীয় পথটি যাবে নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত, যা হবে উড়ালপথে। পুরো মেট্রোটি নির্মাণে খরচ হবে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। লাইন ১-এর নির্মাণ প্রকল্পে গত অক্টোবরে জাপান, ফ্রান্স, ভারত ও বাংলাদেশের আট প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মূল নির্মাণকাজ আগামী জুনে শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

মেট্রোরেল লাইন-৫ (উত্তর রুট) সাভারের হেমায়েতপুর থেকে শুরুর পর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশন ও গুলশান হয়ে ভাটারা যাবে। মেট্রোরেল লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট) গাবতলী থেকে মিরপুর রোড ধরে গিয়ে পান্থপথ, হাতিরঝিল, রামপুরা, আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি গিয়ে থামবে। লাইন-২ শুরু হবে গাবতলী থেকে। এর পর বছিলা, মোহাম্মদপুর, ঝিগাতলা, নিউমার্কেট, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, গুলিস্তান, আরামবাগ, কমলাপুর, মুগদা হয়ে চট্টগ্রাম রোডে গিয়ে শেষ হবে। এমআরটি লাইন-৪ হবে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত।

সব মিলিয়ে ছয়টি মেট্রোরেল লাইন ২০৩০ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা থাকলেও সে অনুযায়ী কাজ এগোয়নি। ফলে বাকি সময়ে প্রকল্পগুলো নেওয়া, নির্মাণকাজ করা এবং মেট্রোরেল চালু সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সূত্র: আমাদের সময়
আইএ/ ২৮ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button