উত্তর আমেরিকা

নিউইয়র্কে গাড়িতে আটকা পড়ছে বাসিন্দারা

নিউইয়র্ক, ২৭ ডিসেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে তুষার ঝড়ের কারণে অন্তত ২৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে ২৭ জনই বাফেলোর। নিউইয়র্কের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তুষার ঝড়ের কারণে কিছু মানুষ দুদিন ধরে গাড়ির মধ্যে আটকা পড়ে আছে। সম্ভবত ওইসব মানুষের জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহতম তুষারঝড় এবারেরটাই।

 

বিবিসি জানিয়েছে, তুষার ঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলিয়ে ৫৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তার মধ্যে কেবল বাফেলো শহরে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোছুল বলেছেন, এটি প্রকৃতি মায়ের সাথে একটি যুদ্ধ। গত বৃহস্পতিবার থেকে সে তার সবকিছু দিয়ে আমাদের আঘাত করছে।

ক্যাথি হোছুল বলেছেন, এটা অনেকটাই যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকার মতো হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার পাশের যানবাহনগুলো হতবাক করছে। বাসিন্দারা প্রাণ সংশয়ের মুখে পড়ছে। জরুরি বিভাগের গাড়িগুলো বহু স্থানে পৌঁছাতে পারছে না। বরফের কারণে তারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৯ অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। উত্তর আমেরিকার একটি বিস্তীর্ণ অংশ ব্যাপক ঠান্ডায় প্রায় জমে গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জন্য ফেডারেল সমর্থন দিতে জরুরি ঘোষণার অনুমোদন দিয়েছেন। এবারের ছুটিতে তুষার ঝড়ের কারণে যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দেশটিতে উদ্ভুত পরিস্থিতি ইতিহাসে বিরল। তা অতীতের সমস্ত শীতের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। পশ্চিম কানাডায় এরই মধ্যে তাপমাত্রা পৌঁছে গেছে হিমাঙ্কের ৫৩ ডিগ্রি নীচে। এছাড়া, মিনেসোটার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৩৮ ডিগ্রি নীচে, ডালাসের তাপমাত্রা নেমেছে হিমাঙ্কের ১৩ ডিগ্রি নীচে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তুষার ঝড়ের কারণে গত কয়েকদিন থেকেই নজিরবিহীন বিদ্যুৎবিভ্রাট ও ব্ল্যাকআউটের ঘটনা ঘটেছে, ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং ৯ অঙ্গরাজ্যে কমপক্ষে ৪৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাফেলোতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ঘটেছে। সেখানে যানবাহনে এবং বরফের নিচে মরদেহ পাওয়া গেছে। জরুরি কর্মীরা গাড়ির পর গাড়িতে খোঁজ করে দেখছেন যে, সেসব স্থানে জীবিত বা মৃত কেউ আছে কি না।

তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় পুরু বরফের আস্তরণ জমে গেছে। কোথাও কোথাও তার উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুট। যার ফলে দেশটিতে যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে দেশটির কোনায় কোনায়। প্রায় ২ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীনভাবে বাস করছেন। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে যতটা সম্ভব বাড়ির ভিতর থাকতে হবে। তীব্র ঠান্ডায় বাইরে বের হলে ফ্রস্টবাইটের শিকার কিংবা প্রাণহানির শঙ্কাও রয়েছে। কারণ তুষারপাতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অনবরত চলছে ঝোড়ো হাওয়া। কনকনে ঠান্ডা সেই হাওয়া যেন চাবুক মারছে শরীরে।

আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির মাঝে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও কয়েক ইঞ্চি তুষারপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া অফিস।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button