ইউরোপ

করোনার সংক্রমণ-মৃত্যুর তথ্য জানানো বন্ধ করছে ব্রিটেন

লন্ডন, ২৬ ডিসেম্বর – যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ-মৃত্যুর তথ্য আর প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। ২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারির পর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

ব্রিটেনের সরকারি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে হেলথ সিউরিটি এজেন্সির (ইউএনএইচএ) চেয়ারপারসন ডা. নিক ওয়াটকিনস এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মহামারির দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময়ে যুক্তরাজ্যের জনগণ করোনাভাইরাসের সঙ্গে সহাবস্থানে অভ্যস্থ হয়ে উঠেছে। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে করোনা টিকার দুই ডোজ নিয়েছেন এবং মহামারির শুরুর সময়ের চেয়ে বর্তমানে করোনার চিকিৎসাপদ্ধতিও অনেক উন্নততর।

‘ফলে, করোনা এখন অনেকটাই ঋতুপরিবর্তন জনিত কারণে সর্দিকাশির মতো একটি রোগে পরিণত হয়েছে ব্রিটেনে। এ কারণে আমরা মনে করছি, সংক্রমণ-মৃত্যুর তথ্য প্রকাশের আর কোনো প্রয়োজন নেই।’

২০২২ সালের এপ্রিল থেকেই অবশ্য ব্রিটেনের সরকার করোনার দৈনিক সংক্রমণ-মৃত্যুর তথ্য জানানো বন্ধ করেছিল। তারপর থেকে এতদিন সাপ্তাহিক এবং পাক্ষিক তথ্য জানানো হতো। সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আগামী বছরের ৬ জানুয়ারির পর থেকে তাও বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে সংক্রমণ-মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ বন্ধ করলেও দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হবে। ব্রিটেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে ডা. ওয়াটকিনস বলেন, ‘আমার (করোনা সংক্রমণের) হালনাগদ তথ্য সংগ্রহ ও তা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দিচ্ছি না। এই ভাইরাসটির কোনো উদ্বেগজনক ধরনের আবির্ভাব ঘটল কিনা— সেই খোঁজখবর রাখার জন্যই (করোনায় সংক্রমণ-মৃত্যুর) তথ্য সংগ্রহের কাজটি চালিয়ে যাব আমরা।’

সেই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি যদি করোনার সংক্রমণ সম্পর্কিত কোনো হালনাগাদ তথ্য জানতে চান, সেক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাজ্যের সরকারি পরিসংখ্যান দপ্তর অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিকটিক্সের ‘রোগ ও সংক্রমণ’ বিভাগে যোগাযোগ করলে সহজেই তা পেয়ে যাবেন তিনি।

চলতি ২০২২ সালের শুরুর দিকে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইনসহ প্রায় সব ধরনের করোনা বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে ব্রিটেনের সরকার। মহামারির প্রথম দুই বছরে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে যে অর্থনৈতিক স্থবিরতার ‍সৃষ্টি হয়েছিল, তা কাটাতেই নেওয়া হয়েছিল এ উদ্যোগ।

এদিকে, চলতি ডিসেম্বর থেকে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলো ফের বাড়ছে রোগীদের সংখ্যা। যুক্তরাজ্য সরকারের গণস্বাস্থ্য কর্মসূচি বিভাগের পরিচালক ডা. মেরি র‌্যামসে গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে আমরা লক্ষ্য করেছি। অধিকাংশই শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা নিয়ে এই রোগীদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ কিংবা তার চেয়ে বেশি।’

‘অবশ্য এই রোগীদের সবাই যে করোনায় আক্রান্ত— এমন নয়। তাদের মধ্যে ঠাণ্ডাজ্বরের কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগছেন— এমন রোগীও আছেন প্রচুর,’ সংবাদ সম্মেলনে বলেন ডা. রামসে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট
আইএ/ ২৬ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button