দক্ষিণ এশিয়া

চীন-পাকিস্তান একযোগে ভারতে আক্রমণ চালাতে পারে

নয়াদিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর – চীন ও পাকিস্তান একযোগে ভারতের উপর হামলা চালাতে পারে। যদি যুদ্ধ বাধে তবে একসঙ্গে এই দুই দেশের সঙ্গে লড়তে হবে। ফলে বড় বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হতে পারে ভারতকে। রোববার সাবেক সেনা কর্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এই মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে তাওয়াং সেক্টরে চীনা আগ্রাসন নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। রাহুল বলেছিলেন, যুদ্ধের ছক কষছে চীন। যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে। আমাদের সরকার তা মানতে চাইছে না। তিনি আরও বলেছিলেন, চীন লাদাখ ও অরুণাচলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর ভারত সরকার ঘুমোচ্ছে!

চীন সীমান্তে ভারতীয় সেনা ‘মার খেয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে তাকে লাগাতার আক্রমণ করতে শুরু করে বিজেপি তথা মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়সঙ্কর সহ বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া দাবি করেন, রাহুলকে দল থেকে বহিষ্কার করুক কংগ্রেস।

যদিও রোববার পাকিস্তান এবং চীন নিয়ে রাহুলের মন্তব্য ছিল আগের চেয়ে আলাদা।

রোববার সাবেক সেনা কর্তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার একটি ভিডিও প্রকাশ করে কংগ্রেস। সেই ভিডিওতে রাহুলকে বলতে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। একসময় মনে করা হত ভারতের তিন শত্রু- চীন, পাকিস্তান এবং সস্ত্রাসবাদ। কিন্তু বর্তমানে চীন এবং পাকিস্তান একসঙ্গে জুড়েছে। যদি কোনও যুদ্ধ বাধে তা হলে ভারতকে এই দুই দেশের সঙ্গেই একযোগে লড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে এক বিরাট বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে। ভারত এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক জায়গায়।

এদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন রাহুল। তিনি বলেন, সেনার প্রতি শুধু সম্মানই নয়, ভালবাসা এবং শ্রদ্ধাও রয়েছে আমার। আপনারাই দেশকে রক্ষা করেন। আপনাদের ছাড়া এই দেশ থাকবেই না।

এরপরে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মোদি সরকারের সমালোচনা করেন রাহুল। অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখে যা ঘটছে তা নিয়ে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন, সেকথা জানান।

আশঙ্কা প্রকাশ করে রাহুল বলেন, চীন এবং পাকিস্তান কিন্তু একসঙ্গে আমাদের একটা বড় চমক দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আর সে কারণেই আমি বারবার বলছি সরকারের হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় নয় এটা। সীমান্তে কী ঘটছে তা দেশবাসীকে খোলসা করে বলা প্রয়োজন সরকারের। যা ব্যবস্থা নেয়ার আজ থেকেই নিতে শুরু করতে হবে।

কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, আসলে পাঁচ বছর আগেই কাজ শুরু করা উচিত ছিল, কিন্তু হয়নি। যদি আজও ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে বড় বিপর্যয়ের সামনে পড়তে হবে আমাদের।

উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াংয়ের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) ভারতীয় ও চীনা সৈন্যদের সংঘর্ষ হয়। এর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই বিবাদপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন সৈন্য মোতায়েন করে বৃদ্ধি ভারত। অন্যদিকে চীনও এই অঞ্চলে সেনার সংখ্যা বাড়িয়েছে। এছাড়াও অধিকৃত তিব্বতের বিমানঘাঁটিতে চীনা যুদ্ধবিমান এবং ড্রোনের আনাগোন দেখা গেছে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/২৬ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button