দক্ষিণ এশিয়া

তৃতীয়বারের মতো নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন মাওবাদী নেতা প্রচণ্ড

কাঠমান্ডু, ২৫ ডিসেম্বর – নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন পুষ্পকমল দাহাল ওরফে ‘প্রচণ্ড’। দেশটির প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারী এরই মধ্যে তাকে অ্যাপয়েন্ট করেছেন। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।

এর আগে চলে ব্যাপক নাটকীয়তা। কারণ শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বাধীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এদিন সকালে। দুপুর গড়াতেই বিরোধী সিপিএন-ইউএমএলসহ ছোট দলগুলো বাড়ায় সমর্থনের হাত। এরপরই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যান তিনি।

জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে প্রচণ্ডের দলের। দুই দল থেকেই ভাগাভাগি করে হবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রচণ্ডের দাবি মেনে তাকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী করার বিষয়ে সায় দেন ওলি।

রোববার সকালেই নেপালি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন পাচ দলের জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন প্রচণ্ড। তাকে প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রিত্ব দিতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রী তথা নেপাল কংগ্রেসের প্রধান শের বাহাদুর দেউবা। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের পদও নিজেদের দখলেই রাখতে চেয়েছিলে দেউবা। সিপিএন-এমসিকে আপাতত স্পিকারের পদই দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজি হননি প্রচণ্ড। সে কারণে জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি।

এদিন ওলির বাসকোটের বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে প্রচণ্ডের নেতৃত্বাধীন সিপিএন-এমসি, ওলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন-ইউএমএল, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ও অন্য ছোট ছোট দল। ছিলেন সব দলের শীর্ষ নেতারা। নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে জোট সরকার গড়ার বিষয়ে সহমত হয়েছে দলগুলো।

এরা আগে সিপিএন-এমসি নেতা দেব গুরুঙ্গ জানান, নেপালের সংবিধানের ৭৬ (২) ধারা মেনে ১৬৫ জন আইনপ্রণেতা চুক্তিতে সই হয়েছে। প্রেসিডেন্টের কাছে সেই চুক্তি পাঠানো হবে।

নেপালে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য সংখ্যা ২৭৫। সেখানে ১৬৫ জনের সমর্থন পেয়েছে নতুন জোট সরকার। তার মধ্যে সিপিএন-ইউএমএলের ৭৮ জনের সমর্থন পেয়েছে নতুন জোটটি। প্রচণ্ডের দল সিপিএন-এমসির ৩২ জনের সমর্থন রয়েছে। আরএসপির ২০ জন, আরপিপির ১৪ জন, জেএসপির ১২ জন, জনমত দলের ৬ জন এবং নাগরিক উন্মুক্তি পার্টির ৩ জনের সমর্থন রয়েছে।

সিপিএন-ইউএমএলের সাধারণ সম্পাদক শঙ্কর পোখারেল বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয়েও নেপালি কংগ্রেস সরকার গড়তে পারেনি।

নেপালের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হলো নেপালি কংগ্রেস। তাদের আসন সংখ্যা ৮৯। সরকার গড়ার জন্য ১৩৮ জনের সমর্থন প্রয়োজন। সেখানে নতুন জোট সরকারের ১৬৫ জনের সমর্থন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে আস্থাভোটে নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে প্রচণ্ডকে।

গত মাসে নেপালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ২৫ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button