মিডিয়া

অস্ত্র ঠেকিয়ে সাংবাদিককে জিম্মি, মারধর

চট্টগ্রাম, ২৫ ডিসেম্বর – চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসের স্টাফ করেসপনডেন্ট আবু আজাদ। স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দীন তালুকদার মোহনের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তাকে মারধর ও মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে দেড় ঘণ্টা জিম্মি করে রাখে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

রোববার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মঘাছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আবু আজাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের আরেক স্টাফ করেসপনডেন্ট জোবায়ের চৌধুরী বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সহকর্মী আবু আজাদ। এসময় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের মঘাছড়ি এলাকায় রাস্তার পাশে মাটি তুলে নামহীন ইটভাটা নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে ছবি তুলতে যান আবু আজাদ। এসময় স্থানীয় ইউপি মেম্বার মহিউদ্দীন তালুকদার (মোহন) পাঁচ-ছয়জন নিয়ে এসে আবু আজাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর করে।

তিনি আরও বলেন, পরে তাকে একটি সাদা রঙের নোহা গাড়িতে তুলে মঘাছড়ি বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রকাশ্যে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আবার মারধর করে। এরপর তার কার্যালয়ে নিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে। এসময় তারা আবু আজাদের মোবাইলফোন, মানিব্যাগ ও আইডি কার্ড কেড়ে নেয়। পরে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা জিম্মি করে রাখার পর ইউপি মেম্বার মোহন তার একটি ভিজিটিং কার্ড পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে ‘ক্ষমতা থাকলে কিছু করিস’ বলে ছেড়ে দেয়।

 

অভিযুক্ত মহিউদ্দীন তালুকদার মোহন বলেন, আমি ওই সাংবাদিককে মারিনি। উনি (সাংবাদিক আবু আজাদ) আমাদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ইটভাটার ছবি তুলছিলেন। তখন ইটভাটার লেবার ও ম্যানেজারদের সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। পরে আমাকে চেয়ারম্যান ফোন দিলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তখন দেখি লেবারদের সঙ্গে উনি হাতাহাতি করছেন। এরপর আমি উনাকে আমার অফিসে নিয়ে এসেছি।

ইটভাটার মালিক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি আজ (রোববার) চট্টগ্রামে ছিলাম। উনি (সাংবাদিক আবু আজাদ) আমার ইটভাটায় মাটি কাটার ছবি তুলছিলেন। তখন লেবাররা তাকে ধরে মোহন মেম্বারের অফিসে নিয়ে গেছে। মোহন মেম্বার বিষয়টি আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। তখন আমি বলেছি, মোবাইলে ছবি থাকলে, তা ডিলিট করে তাকে ছেড়ে দাও। এসময় মোহন মেম্বারের মোবাইলে আমি ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কথাও বলেছি।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনাস্থল এবিসি ও এবিসি-২ ইটভাটার মালিক। তিনি স্থানীয় ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

 

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মিল্কী বলেন, আমি সাংবাদিক আবু আজাদের ওপর হামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। তারপরও আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

এদিকে সাংবাদিক আবু আজাদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি তপন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সূত্র: জাগো নিউজ
আইএ/ ২৫ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button