জাতীয়

আজ দেশব্যাপী বিএনপির গণমিছিল

ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর – সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আজ সারা দেশের জেলা ও মহানগরে গণমিছিল করবে বিএনপি। তবে ঢাকায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল ও রংপুরে সিটি করপোরেশন নির্বাচন থাকায় ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা ও রংপুরে গণমিছিল করবে দলটি।

গত ১০ ডিসেম্বর গোলাপবাগে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে তৃতীয় পর্যায়ের আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আজ তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে গত ১২ আগস্ট প্রথম ধাপে জেলা পর্যায়ে এবং ১২ অক্টোবর থেকে প্রতিটি বিভাগে দ্বিতীয় ধাপে গণসমাবেশ করে দলটি।

বিএনপি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, আমাদের কারাবন্দি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কর্মসূচিতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তির দাবির বিষয়টি ব্যানারে রাখতে বলা হয়েছে। খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের মুক্তির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে রাখতে সারা দেশের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সম্মেলনস্থল পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শনিবার আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে মফস্বলে বিএনপির ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা আছে। এ জন্য তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপি সবসময় শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। বিএনপি কীভাবে কর্মসূচি পালন করে তা দেশের পাশাপাশি বিশ্ববাসী দেখেছে। সুতরাং তারা কী বলল তা নিয়ে আমরা ভাবি না।

তিনি বলেন, ১০ দফা দাবি আদায়ে দেশব্যাপী গণমিছিল আমাদের প্রথম কর্মসূচি। এরপর সরকারবিরোধী সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করব। আগামী দিনে নতুন কর্মসূচি যৌথভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।

সারা দেশে কীভাবে গণমিছিলের কর্মসূচি পালন করা হবে এবং কারা কারা থাকবে জানতে চাইলে বরকত উল্লা বুলু বলেন, পুনর্বিন্যাসকৃত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকা ও রংপুর ছাড়া সব জেলা ও মহানগরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এ গণমিছিলে বিভাগীয় শহরসহ ১৯টি জেলায় দলের সিনিয়র নেতারা নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া অন্যান্য জেলা ও মহানগরে সংশ্লিষ্ট নিজ জেলার অধিবাসী কেন্দ্রীয় এবং জেলা ও মহানগরের নেতারা নেতৃত্ব দেবেন। দলের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক নেতারা সার্বিক সমন্বয় করছেন। গণমিছিল সফল করতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সবপর্যায়ের নেতাদের গণমিছিল সফল করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি আমরা।

গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অভিযোগ করে বলেছেন, ‘দেশব্যাপী গণমিছিলের কর্মসূচি সামনে রেখে সরকার নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, গাজীপুরসহ দেশজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া কারাবিধি অনুযায়ী অনেক নেতা ডিভিশন পাওয়ার অধিকারী হলেও অনেককে এখনো ডিভিশন দেওয়া হয়নি। কারাবন্দি নেতাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। তাদের ২৪ ঘণ্টা লকআপে রাখা হচ্ছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ শীর্ষ নেতাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। তারা গুরুতর অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ হলেও সরকারের নির্দেশেই তাদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আমি আবারও বিএনপি মহাসচিবসহ আটক সব রাজবন্দির মুক্তি দাবি করছি।

তিনি বলেন, বিএনপির গণসম্পৃক্ত আন্দোলন, কর্মসূচি এবং সরকারের বিরুদ্ধে গণরোষে সরকারের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান এবং আওয়ামী লীগ কর্তৃক ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্গঠনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণার পর সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে অন্যরা পাগলের প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপি নেতা মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, তাইফুল ইসলাম টিপু, আবুল কালাম আজাদ, কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
আইএ/ ২৪ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button