জাতীয়

আ.লীগের সম্মেলন: তৃণমূলের লক্ষাধিক নেতাকর্মী ঢাকায়

মাহফুজ সাদি

ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর – ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর)। এই সম্মেলনে যোগ দিতে সারা দেশ থেকে দলটির সাংগঠনিক জেলা-মহানগর শাখার কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা এবং তাদের সঙ্গে আসা অন্যান্য নেতাকর্মীরা বর্তমানে রাজধানীতে অবস্থায় অবস্থান করছেন। জানা গেছে, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আসা এই বিপুল সংখ্যক লোক আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার বাসা, আবাসিক হোটেল এবং আত্মীয় ও পরিচিত জনের বাসায় উঠেছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) পর্যন্ত দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ কার্ড বিতরণ করা হয়। এবার সাড়ে ৮ হাজার কাউন্সিলর এবং ২৫ হাজার ডেলিগেট অংশ নেবেন সম্মেলনে। সারা দেশ থেকে এসে তারা ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।

জানতে চাইলে সম্মেলনে আসা ডেলিগেট ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। বেলা ১২টার দিকে ঢাকায় পৌঁছে ভগ্নিপতির বাসায় উঠেছি। সেখানে রাতে অবস্থান করে শনিবার সকালে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করবো। একইভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কাউন্সিলরদের অনেকে বৃহস্পতিবার রাতে এবং শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন বলে জেনেছি।

জানা গেছে, বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটরা আসার সময় তাদের সঙ্গে দুই থেকে পাঁচ জন পর্যন্ত নেতাকর্মী ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া তৃণমূল থেকে আরও অনেক নেতাকর্মী আবেগের জায়গা থেকেও সম্মেলন দেখতে ঢাকায় এসেছেন। এসব নেতাকর্মীরাও পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতার বাসা, আবাসিক হোটেল এবং আত্মীয় ও পরিচিতজনের বাসায় উঠেছেন।

ঝালকাঠি জেলা থেকে আসা অন্তত তিন জন নেতা জানিয়েছেন, সম্মেলনে কাউন্সিলর বা ডেলিগেট হিসেবে দাওয়াত না পেলেও সম্মেলন দেখতে তারা ঢাকায় এসেছেন। এবারের সম্মেলনটি বিদ্যমান পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় কী বার্তা দেন নেত্রী, সেটা শোনা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন তারা। সম্মেলন শেষে আবার নিজ জেলায় ফিরে যাবেন তারা।

সম্মেলন উপরক্ষে গঠিত মঞ্চ সাজসজ্জা উপ-কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকসহ সবমিলিয়ে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে। তবে এবার বিদেশের কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ৫০ হাজার লোকের খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। ৩০-৩৫ হাজার লোকের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই শতাধিক শৌচাগারের ব্যবস্থা আছে।

সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের জন্য পাঁচটি গেট রয়েছে। এরমধ্যে শিখা চিরন্তনের দিকে গেট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ভিআইপি অতিথিরা প্রবেশ করবেন। বাকি ৪টি কাউন্সিলরদের প্রবেশ করবেন। সকাল ৭টা থেকে কাউন্সিলর-ডেলিগেটরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, সম্মেলনের এবার সাড়ে ৮ হাজার কাউন্সিলর এবং ২৫ হাজার ডেলিগেট অংশ নিচ্ছেন। তারা শুক্রবার রাতের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন। ঢাকা অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর বাইরে বিদেশের কোনও রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। এবারের সম্মেলনে নেতাকর্মী ও অতিথি মিলিয়ে লক্ষাধিক লোক অংশগ্রহণ করবেন। এখন কেবল রাত পোহালেই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

তিনি আরও জানান, অন্যান্য বার দুই দিনব্যাপী সম্মেলন হলেও এবার পরিস্থিতির কারণে কৃচ্ছ্রতাসাধনের অংশ হিসেবে সম্মেলন হচ্ছে একদিনে। প্রথম অধিবেশন হবে সোহরাওয়ার্মী উদ্যানে। তারপর দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতি দেওয়া হবে। সম্মেলনের মূল অধিবেশন, কাউন্সিল অধিবেশন বিকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথিবর্গ (বিশেষ দাওয়াত কার্ডধারী), বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) সংলগ্ন অথবা শিখা চিরন্তন’ গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যে কোনো প্রকার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় সকলের ব্যক্তিগত গাড়ি ডিএমপি পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করতে হবে। এছাড়া ২২তম জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সকল কাউন্সিলর, ডেলিগেট ও আওয়ামী লীপের নেতাকর্মীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাংলা একাডেমি, রমনা কালীমন্দির, টিএসসি ও চারুকলা অনুষদ সংলগ্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। ডিএমপির এই নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ প্রত্যয়’। সম্মেলনের মঞ্চের দৈর্ঘ্য ৮০ ফিট, প্রস্থ ৪৪ ফিট। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা ও পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি হয়েছে সম্মেলনের মঞ্চ। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র রয়েছে।

সম্মেলনের মঞ্চের পেছনের দিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি রয়েছে সবার উপরে। তারপরেই সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ছবি শোভা পাচ্ছে। এছাড়াও সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী, শামসুল হক এবং মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ ও জাতীয় চার নেতার ছবি রয়েছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ২৩ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button