জাতীয়

এক ঘণ্টার মধ্যে রওশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ স্থগিত

ঢাকা, ১৫ ডিসেম্বর – জাতীয় পার্টিতে (জাপা) নাটক অব্যহত রয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদকে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন তাঁর অনুসারীরা। কিন্তু পৌনে এক ঘণ্টা পর বিরোধীদলীয় নেতার প্রেস উইং পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার ঘোষণাটি স্থগিত করা হয়েছে।

রওশনপন্থিদের সূত্রের খবর, ‘উচ্চ পর্যায়ের’ নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে জাপার দখল নেওয়া থেকে নিবৃত্ত হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাত করেন রওশন এরশাদ ও তাঁর ছেলে রাহগির আলমাহি এরশাদ সাদ। জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাকে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞায় দলীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না জি এম কাদের। আজ রওশনপন্থিরা বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দলীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাপার সংখ্যাগরিষ্ঠ কো-চেয়ারম্যানের সমর্থনে বিরোধীদলীয় নেতাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জি এম কাদের নিষেধাজ্ঞা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রওশন এরশাদ দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জাপার কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এবং সালমা ইসলামের মতামতে আইনি জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত রওশন এরশাদ দায়িত্বে থাকবেন। তবে কাজী ফিরোজ সমকালকে জানিয়েছেন, তিনি ঢাকায় ফিরছেন। রওশন এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণার বিষয়ে কিছু জানেন না।

রওশনপন্থিদের বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম এবং নাছরিন জাহান এমপিও রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। তবে শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ পাঁচ মাস থাইল্যান্ডে চিকিৎসা শেষে গত ২৭ নভেম্বর রওশন এরশাদ দেশে ফেরার পর মাত্র একবার সাক্ষাত করেছেন। সাক্ষাতের সময় হাজিরা খাতায় তাঁর সই নেওয়া হয়। এই সইকেই হয়ত রওশন এরশাদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণার সমর্থন বলা হচ্ছে।

কিন্তু রাত সাড়ে ১০টার দিকে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রওশনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার ঘোষণাটি স্থগিত করা হয়েছে। কেনো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হলো আর কেনোই বা স্থগিত করা হলো, তা নিয়ে মুখ খোলেননি রওশনপন্থিরা। বিরোধীদলীয় নেতার মুখপাত্র কাজী মামুনুর রশীদ সমকালকে বলেছেন, এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন।

জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ১৬ ধারা অনুযায়ী, দলের কাউন্সিলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে। ২০ (২) উপধারার খ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে অপারগ হলে দলীয় চেয়ারম্যান সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বা কো-চেয়ারম্যানদের মধ্যে একজনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করতে পারবেন। অন্যথা প্রেসিডিয়াম সদস্যদের একজনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পারবেন।

মুজিবুল হক চুন্নু সমকালকে বলেছেন, গঠনতন্ত্রে তো পরিষ্কার ভাবে বলাই আছে, একমাত্র জি এম কাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করার ক্ষমতা রাখেন। রওশন এরশাদ জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তাঁর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগই নেই। তাঁকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা অবৈধ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা স্থগিতেরও মূল্য নেই।

সূত্র: সমকাল
আইএ/ ১৫ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button