ফুটবল

মেসির স্বপ্নপূরণে ১০ বছরের সঙ্গী আলভারেজ

দোহা, ১৪ ডিসেম্বর – কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নাম্বার নাইন জুলিয়ান আলভারেজ এক বিস্ময়ের নাম! দশ বছর আগে মাত্র ১২ বছর বয়স ছিল তার। সেই সময় তার স্বপ্নের ফুটবলার মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পান। ছবি তুলে তার মনে হয়েছিল জীবনের সব শখ পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তখনকার ১২ বছর বয়সী আলভারেজ বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম বড় ভরসা। তাকে গোলের ঠিকানা লেখা পাশ দিচ্ছেন তার স্বপ্নের নায়ক, ১০ বছর আগের সেই ছবির লিওনেল মেসি।

মেসি সে দিন হাত রেখেছিলেন আলভারেজের নরম কাঁধে। আলভারেজ এখন মেসির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিস্ময় গোলের পরে আলভারেজের কাঁধে উঠে পড়েছিলেন মেসি। নরম কাঁধ যে এখন শক্ত। দুই ফুটবলারের ১০ বছর আগে-পরের কোলাজ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব জুড়ে।

মেসির বর্তমান সতীর্থ এবং ফ্যানবয় আলভারেজ খেলেছেন মেসির পাশে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি গোল করেন তিনি। এর মধ্যে একটি গোলের ঠিকানা লেখা পাশ তাকে দেন স্বপ্নের নায়ক মেসি নিজে। তার গোলের উপর ভরসা করেই ক্রোয়েশিয়াকে সেমিফাইনালে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জয়ের শেষ ম্যাচে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।

প্রথম সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার পর ভাইরাল হয়েছে আলভারেজের এই ১০ বছরের পুরনো ছবি। ছবিতে দেখা গিয়েছে আলভারেজের ফ্যানবয় মুহূর্ত। সেখানে তাকে মেসির পাশে পোজ দিতে দেখা গিয়েছে। ভক্তরা ইতিমধ্যেই দুই সুপারস্টারকে ‘অসাধারণ জুটি’ বলে অভিহিত করেছেন।

আলভারেজ ২০২১ সালের ৩ জুন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের একটি ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক করেন। মেসির অভিষেকের প্রায় ১৬ বছর পরে হয় তার অভিষেক। বর্তমান টুর্নামেন্টে তার গোল চারটি। অন্যদিকে তার কিংবদন্তি সতীর্থের রয়েছে পাঁচটি গোল।

৩৫ বছর বয়সী মেসি, যিনি ২০১৪ সালের ফাইনালে জার্মানির কাছে পরাজিত হন। তিনি তার প্রথম বিশ্বকাপ জিতে ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ সালে জয়ীদের পাশে আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় শিরোপা এনে দিতে মরিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরষ্কার নিয়ে মেসি বলেন, ম্যাচসেরার পুরস্কারটি তার সতীর্থ জুলিয়ান আলভারেজের প্রাপ্য। আলভারেজকে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার বলেন মেসি। তিনি বলেন, আমরা দল হিসেবে খেলি। এটাই আমাদের সবচেয়ে ভাল গুন। এই ম্যাচে আলভারেজ দুর্দান্ত খেলেছে, অসাধারণ। ও মাঠে সবার চেয়ে বেশি দৌড়েছে, অনেক গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিল আলভারেজ। ম্যাচ সেরার পুরস্কার আলভারেজের প্রাপ্য।

আলভারেজকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি বলেছেন, আলভারেজ খুব ভাল খেলেছে। শুধু দুটো গোল করেছে বলে নয়, ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের মাঝমাঠ শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। গোটা মাঠ জুড়ে খেলেছে। ওর খেলা দলকে ভরসা দিয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে আলভারেজ জানিয়েছিলেন, তার পরিবারের সবাই মেসির ভক্ত। বাড়ির সদস্যরাও চাইতেন, আলভারেজ যেন মেসির পাশে খেলে। ২০২১ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পান। এর পর ইকুয়েডরের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্য়াচে প্রথম গোল করেন।

উল্লেখ্য, জুলিয়ান আলভারেজের জন্ম আর্জেন্টিনার শহর ক্যালচিনে। মাত্র ৫ বছর বয়স থেকে আর্জেন্টিনার প্রিমিয়ার ডিভিশনে খেলেছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে আলভারেজ আর্জেন্টিনার ক্লাব রিভার প্লেটের হয়ে খেলেন। ৯৬ ম্যাচে রয়েছে তার ৩৬টি গোল। পরিকল্পনা করে খেলতে পারেন। এখানেই আলভারেজ বাকি স্ট্রাইকারদের থেকে একটু আলাদা।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৪ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button