ফুটবল

মেসির যোগ্য উত্তরসূরি আলভারেজ

দোহা, ১৪ ডিসেম্বর – আর্জেন্টিনার দারুণ জয়ে নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন তরুণ ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে দুর্দান্ত দুই গোল উপহার দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই তারকা। অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে আক্রমণভাগে সবচেয়ে বেশি বোঝাপোড়া তারই এই বিশ্বকাপে। তিনি প্রতিটি ম্যাচেই তার প্রমাণ দিয়েছেন।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথমে পেনাল্টি থেকে মেসি যে গোলটা পান তার কৃতিত্ব অনেকটাই আলভারেজের। বক্সের ভেতর তাকে অবৈধভাবে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ ফেলে না দিলে গোলই পেয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটা আসে তারই পা থেকে। নিজেদের অর্ধ থেকে প্রায় একক প্রচেষ্টায় গিয়ে গোল করেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড।

আর বিরতির পর অধিনায়ক মেসির দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট থেকে দলের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলভারেজ। বলতে গেলে সেমিফাইনালটি মেসি আর আলভারেজ জুটির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা আলভারেজ। প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। তেমন কিছু করতে পারেননি। প্রথম ম্যাচটা আর্জেন্টিনা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হেরে বসে সৌদির কাছে।

এরপর ধীরে ধীরে দল যেভাবে গুছিয়ে উঠেছে আলভারেজও নিজেকে মেলে ধরেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে আর্জেন্টিনা জিতলেও গোল পাননি আলভারেজ। তবে মাঠে ছিলেন সপ্রতিভ। পোল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে এসে পেয়ে যান কাঙ্খিত গোলের দেখা। মেসির পাস থেকে গোল করেন আলভারেজ। সঙ্গে সঙ্গে ঢুকে যান বিশ্বকাপ ইতিহাসে গোলদাতাদের তালিকায়। শেষ ষোলোর কঠিন পরীক্ষায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারো জ্বলে ওঠেন এই তরুণ কাণ্ডারি। দলের দ্বিতীয় গোলটি আসে তার পা থেকে।

কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পরিশ্রম করে খেলেছেন তিনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের মাথাব্যাথার কারণ বারবার হয়ে উঠেছেন তিনি। গোল না পেলেও ডাচদের রক্ষণে কাপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন ঠিকই আলভারেজ। আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষের সেমিফাইনাল ম্যাচটা তো নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচই খেললেন তিনি। দুর্দান্ত দুই গোল আর অসাধারণ ড্রিবলিং দিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তিনি। ডি মারিয়া ও পাওলো দিবালার ইনজুরি আর্জেন্টিনা দলের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আলভারেজ সেই চিন্তাটা সেমিফাইনাল পর্যন্ত মোটামুটি দূর করেছেন বলাই যায়। বিগ ম্যাচের টেম্পারমেন্ট ধরে খেলেই যাচ্ছেন এই নতুন তারকা।

বিশ্বকাপের ৬ ম্যাচে ইতিমধ্যে ৪ গোল করেও ফেলেছেন আলভারেজ। মেসি ও এমবাপ্পে ৫ গোল করে এখন শীর্ষে রয়েছেন। তারই রয়েছেন আলভারেজ ও জিরুদ। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৩ ম্যাচে মোট ৫ গোল করে ফেলেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। ফাইনালে যে আর্জেন্টিনা দল মেসির পাশাপাশি আলভারেজের দিকেও তাকিয়ে থাকবে এটা বলাই যায়। আর দীর্ঘ ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘোচাতে হলে ফাইনালে মেসি ও আলভারেজ জুটির একসঙ্গে জ্বলে ওঠার খুবই প্রয়োজন।

সূত্র: আগাদের সময়
আইএ/ ১৪ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button