সেমিফাইনালে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা
দোহা, ১১ ডিসেম্বর – শিরোনাম পড়েই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে আর্জেন্টাইন ভক্ত-সমর্থকরা। আগামী ১৩ ডিসেম্বর কাতার বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের জন্য আলবিসেলেস্তেদের এর থেকে বড় অনুপ্রেরণা আর কি হতে পারে! সেমিফাইনাল মানেই যে আর্জেন্টিনা ফেবারিট।
৩৬ বছরের বিশ্বকাপ শিরোপা খরা কাটাতে ফেবারিট হিসেবে কাতারে পা রেখেছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মেসি ভক্তরাও চাইছিলেন এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি তার হাতেই উঠুক। তবে প্রথম ম্যাচেই অপেক্ষাকৃত কম শক্তির সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে যাই আলবেলেস্তেদেরা। শুরু হয় সমালোচনা।
তবে সব সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে মেসিরা। তৃতীয় বিশ্বকাপে শিরোপা থেকে এখন মাত্র দুই ধাপ দূরে তারা। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে হারাতে পারলেই ফাইনালে উঠে যাবে স্কালোনির শিষ্যরা।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা বরাবরই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ইতিহাস অনন্ত সেটাই বলে। কারণ, কাতার বিশ্বকাপের আগে এখন পর্যন্ত চারবার সেমিফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। যেখানে একবারও হারেনি তারা।
বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম আসরেই সেমিফাইনালে খেলে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে, ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে এবং ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে।
তবে লক্ষনীয় ব্যাপার হল, ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও সেবার সেমিফাইনাল ছিল না।আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত সে আসরে প্রথমে ১৬ দল ৪ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলে। সেই চার গ্রুপের সেরা আট দল দ্বিতীয় রাউন্ডে দুই গ্রুপে ভাগ হয়। এই দুই গ্রুপের সেরা দুই দল খেলে ফাইনাল। সেই হিসেবে বিশ্বকাপে পাঁচবার ফাইনাল খেললেও চারবার সেমিফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে ম্যারাডোনার দল।
১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে ফেবারিট ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই যুক্তরাষ্ট্রকে ৬-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা। উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তখন কেউ চিন্তাই করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দেবে আর্জেন্টিনা।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে একাই গুঁড়িয়ে দেন ম্যারাডোনা। তার দুই গোলের সুবাদে সেমিতে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা। সেই বিশ্বকাপেই ম্যারাডোনাকে চেনে পুরো বিশ্ব, আর সেই বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৯০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে টাইব্রেকারে ইতালিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। যদিও ফাইনালে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে গিয়েছিল তারা।
২০১৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে ফাইনালে উঠেছিল মেসির দল। সে ম্যাচে ১২০ মিনিটে কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল। সে বিশ্বকাপেও ফাইনালে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল মেসির আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টাইনরা চাইবে এবারও সেই ধারা অব্যাহত থাকুক। গতবারের রানার্স আপ ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে সোনালী ট্রফি আরো কাছে চলে যাক চলে যাক লিওনেল স্কালোনির র্শীর্ষরা।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১১ ডিসেম্বর ২০২২









