দক্ষিণ এশিয়া

গুজরাটে পরাজয়: আপ ও ওয়েইসির দলকে দুষল কংগ্রেস

নয়াদিল্লি, ৯ ডিসেম্বর – ভারতের গুজরাটের বিধানসভা ভোটে বাজে ধরনের পরাজয়ের জন্য আম আদমি পার্টি (আপ) এবং আসাদউদ্দীন ওয়েইসির ইসলামী দল এআইএমআইএমকে দায়ী করছে কংগ্রেস।

এদিকে রাজ্যটিতে রেকর্ডবার জেতা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বলেছে, গুজরাটের ফল আগামী লোকসভা নির্বাচনের ফলের আভাস।

২০১৭ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় বিজেপি এবার ৫৭টি আসন বেশি পেয়েছে। এর আগে ১৯৮৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে ১৪৯টি আসন জিতেছিল কংগ্রেস।

এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়ে সপ্তমবারের মতো ক্ষমতায় বসছে বিজেপি।
বিধানসভা ভোটের এবারের ফলের সঙ্গে গতবারের ফলের তুলনা করলে তা কংগ্রেসের জন্য বিরাট হতাশার। এবার তাদের আসনসংখ্যা ৬০টি কমে মাত্র ১৭-তে এসে ঠেকেছে। রাজ্যের ১২টির মতো জেলায় তারা কোনো আসনই পায়নি। বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়া নিয়েও শঙ্কা জেগেছে।

অনেক বিশ্লেষক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ কংগ্রেসের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। শুক্রবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ মন্তব্য করেন, শুধু আপ নয়, আসাদউদ্দীন ওয়েইসির অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল ইসলাম (এআইএমআইএম) দলও তাদের বিপর্যয়ের কারণ। রমেশ বলেন, নির্বাচনে এই দুটি দল বিজেপির ‘অনানুষ্ঠানিক অংশীদার’ হয়ে কাজ করেছে।

জয়রাম রমেশ আরো বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিতে এআইএমআইএম দলের ভূমিকা যথেষ্ট স্পষ্ট হয়েছে। তারা এবং আপ উভয় দলই বিজেপির সক্রিয় সমর্থন পাচ্ছে এবং তারা কংগ্রেসের ভোটব্যাংকে ভাগ বসাচ্ছে। ’

বিশ্লেষকরাও বলছেন, গুজরাটে সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে যেসব ভোট ছিল তা ভাগ হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে বিজেপির ভোট সব একাট্টা হয়ে তাদের বাক্সেই পড়েছে। শেষ পর্যন্ত তা আপ, কংগ্রেস কিংবা এআইএমআইএম কারো জন্যই ইতিবাচক হয়নি।

কচ্ছ, অমরেলি, জুনাগড়, সুরেন্দ্রনগর, সুরাট, তাপিসহ ১২টি জেলায় কোনো আসন পায়নি কংগ্রেস। তাদের ৪৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আপের ১২৮ জন প্রার্থীও জামানত হারিয়েছেন।

গুজরাটে ব্যাপক জয়ের পর বিজেপি রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। হিমাচলে পরাজিত হলেও বিজেপি এ তথ্যে সান্ত্বনা খুঁজছে যে সেখানে কারো টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় যাওয়ার নজির গত ৩৭ বছরেও ছিল না। এ ছাড়া বিজেপি সেখানে ততটা খারাপ ফল করেনি। এ কারণে কংগ্রেসের জন্য হিমাচল জয়ের পরও গুজরাটে হেরে যাওয়াই মূল আলোচ্য। বিজেপি বলেছে, গুজরাটের ফল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলেরই আভাস।

কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের অর্থ প্রতিমন্ত্রী কানভাই দেসাই বলেন, ‘গুজরাট নির্বাচন ২০২৪ সালের লোকসভার আগের সেমি ফাইনাল। ’

আগামী বছর মধ্য প্রদেশ ও রাজস্থানেও বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করা দল আপ সেখানেও অংশ নিলে আবারও কংগ্রেসের জন্য হুমকি সৃষ্টি হতে পারে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এ কথা সত্যি।

আসাদউদ্দীন ওয়েইসির এআইএমআইএম গুজরাটে ১৩ আসনে লড়াই করে একটিতেও জেতেনি। ফল ঘোষণার পর আসাদউদ্দীন বলেন, তাঁর দল হতাশ নয়।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ৯ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button