জাতীয়

সড়কে কমেছে গণপরিবহন ও যাত্রী, চলছে টহল-তল্লাশি

ঢাকা, ০৯ ডিসেম্বর – সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার। এদিন রাজধানী ঢাকার সড়কগুলোয় গণপরিবহনের উপস্থিতি একেবারেই কম। সেইসঙ্গে যাত্রীর উপস্থিতিও কম।

বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ ঘিরে রাজপথ উত্তপ্ত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। স্টেশনের বাইরে এবং ভেতরেও পুলিশের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।

সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার মধ্যে সড়কে যাত্রী ও গণপরিবহন কমেছে বলে জানিয়েছেন ঘর থেকে নানা প্রয়োজনে বের হওয়া ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, আগামীকাল শনিবার বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং রাস্তায় পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ির কারণে আজ সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কম। যাত্রীদের চাপ না থাকায় দূরপাল্লার বাসও তেমন ছেড়ে যায়নি।

এছাড়া ঢাকার ভেতরে এবং ঢাকায় প্রবেশ-বাইরের পথে টহল ও তল্লাশি চৌকিতে সক্রিয় দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি মোড়ে পুলিশ সদস্যদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড় থেকে নাইটেঙ্গেল মোড় পর্যন্ত পুলিশের একটি সাজোয়া যানকে টহল দিতেও দেখা গেছে।

শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর ধানমণ্ডি, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, কাকরাইল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলিস্তান, আরামবাগ, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মহাখালী, ফার্মগেট এলাকা ঘুরে যানবাহন চলাচল তেমন দেখা যায়নি। আর কিছু বাস চললেও তেমন যাত্রী পাচ্ছে না।

রাজধানীর মিরপুর থেকে কাকরাইল আসা নাসিরুদ্দিন আহমেদ নামের একজন বলেন, আমি আসার পথে খুবই কম গণপরিবহন দেখতে পেয়েছি। এ রকম সাধারণত দেখা যায় না। শুক্রবার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে চিড়িয়াখানা, জাদুঘরে বেড়াতে যায়। কিন্তু আজ একটি ভীতিকর পরিস্থিতি কাজ করছে সবার মধ্যে।

তিনি মনে করেন, বিএনপির সমাবেশের আগে কী হয় না হয়, এ জন্য মানুষ আতঙ্কে আছে। আর রাস্তায় পুলিশের তল্লাশিসহ বিভিন্ন কারণে গাড়িও কমেছে। তাই মানুষের বের হওয়ার প্রবণতাও কমেছে।

জাহাঙ্গীর আলম নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বলেন, পুলিশ জায়গায় জায়গায় দাঁড় করায়। নাইটেঙ্গেল মোড়ে, বায়তুল মোকাররম এলাকায় পুলিশ তল্লাশি করে। এ জন্য যাত্রী কম ওঠে। সিএনজি ও কম চলছে। বেশিই প্রাইভেট কার।

তিনি আরও বলেন, আগামীকাল বিএনপির প্রোগ্রাম। কী হয় না হয় কে জানে। অবস্থা খারাপ দেখলে আমিও গাড়ি চালামু না।

ধানমন্ডিতে জাকারিয়া নামের একজন চাকরিজীবী বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন হলেও কেন যেন সড়কে গণপরিপবহণ কম। কাল বিএনপির সমাবেশ। এজন্যই হয়তো কোনো আশঙ্কা থেকে এমনটা হয়েছে। আজ যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে কাল কীভাবে অফিসে আসবো তা ভেবে পাচ্ছি না।

মিরপুর-কমলাপুর রুটে চলাচলকারী আয়াত গাড়ির হেলপার সালাউদ্দিন বলেন, গাড়িঘোড়া ভাঙচুরের ভয়ে অনেকে গাড়ি বের করে নাই। এইজন্য রাস্তায় গাড়ি কম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার সড়কে পুলিশ ও র‌্যাবকে টহল দিতে দেখা গেছে। র‌্যাবের গাড়িবহর পল্টন, দৈনিক বাংলা মোড় হয়ে মতিঝিলের দিকে যেতে দেখা যায়। মোড়ে মোড়ে দেখা যায় পুলিশের সতর্ক পাহারা। নটরডেম কলেজের সামনে র‌্যাবের দলকে যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করতে দেখা গেছে।

এদিকে গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গের দিকে দূরপাল্লার বাস তেমন ছাড়েনি। আবার ওই অঞ্চল থেকেও ঢাকায় বাস ঢুকেছে কম। গাবতলী টার্মিনালের হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের টিকিট বিক্রেতা মো. লালন বলেন, অন্যান্য দিন এ সময় পাঁচটা গাড়ি যেত। আজ যাত্রী নেই তাই একটা গাড়ি ছেড়েছে। গাবতলীতে ২০টি গাড়ি আসার কথা, আসছে দুইটা।

শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের টিকিট বিক্রেতা নাজমুল হাসান মন্টু বলেন, উত্তরবঙ্গের ২০ জেলায় আমাদের ১০ রুটে গাড়ি চলে। বেলা ১২টা পযন্ত ২০টি গাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথা। যাত্রী না থাকায় মাত্র পাঁচটি গাড়ি ছেড়েছে।

মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কিছু বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেলেও যাত্রী তেমন ছিল না। ময়মনসিংহগামী সৌখিন পরিবহনের বাসের হেলপার শামসুদ্দিন বলেন, শুক্রবার অনেক যাত্রী হয় আমাদের লাইনে। কিন্তু আজ খালি, মানুষ নাই।

গাবতলী পর্বত সিনেমা হলের সামনে দারুস সালাম থানার একটি স্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। সেখানে দায়িত্বরত এসআই বায়েজীদ বলেন, এটা স্থায়ী চেকপোস্ট। আমরা নিয়মিত বসি, প্রয়োজনে তল্লাশি করি। এখন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আরও সতর্ক রয়েছি।

উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার প্রবেশপথ আমিন বাজারে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। দায়িত্বরতরা জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তার জন্যে তল্লাশি করা হচ্ছে। কেউ যেন নাশকতা করতে না পারে।

ঢাকার প্রবেশপথ ৩০০ ফুট সড়কের শেখ হাসিনা ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং মস্তুল এলাকায় দেখা যায় পুলিশের টহল। প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন পরিবহন থামিয়ে তল্লাশ করছিলেন তারা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ট্রাফিক) জয়নুল আবেদীন বলেন, শুক্রবার ছুটির দিন। এই ছুটির দিনগুলোতে এমনিতেই সড়কে যানবাহনের চাপ কম থাকে। আজও ঠিক তেমনি যানবাহনের চাপ কম। অন্যান্য শুক্রবারের মতোই আজও সড়কে যানবাহনের চাপ কম রয়েছে।

এদিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। স্টেশনের বাইরে এবং ভেতরেও পুলিশের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে৷ সন্দেহজনক কাউকে পেলে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশিও করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য দিনের চেয়ে শুক্রবার স্টেশনের যাত্রীর চাপ অনেক কম বলে জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

স্টেশনটিতে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে একসঙ্গে বেশি মানুষকে জটলা করতে দিচ্ছে না পুলিশ। কোনো ধরনের দলবদ্ধ অবস্থান থাকলেই তাদের সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া স্টেশনের ভেতরে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ বুথেও পর্যবেক্ষক টিম কাজ করছে।

খালিদ সাইফুল্লাহ নামে একজন যাত্রী বলেন, স্টেশনে ঢোকার সময় আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। টিকিট চেকসহ কোথায় যাব, কেন যাব জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে হয়রানিমূলক কিছুই হয়নি।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এম ইউ/০৯ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button