দক্ষিণ এশিয়া

হিমাচলে ভোট পড়েছে নারীদের বেশি, জিতলেন শুধু এক নারী

নয়াদিল্লি, ৯ ডিসেম্বর – ভারতের হিমাচল প্রদেশে ৬৮ বিধানসভা আসনের মধ্যে জয়লাভ করা একমাত্র নারী প্রার্থী রীনা কাশ্যপ। তিনি জিতেছেন বিজেপির টিকিটে। হিমাচলে ক্ষমতায় ফিরে আসা কংগ্রেসের একজন নারী প্রার্থীও জেতেননি।

গুজরাট এবং হিমাচল প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে বৃহস্পতিবার।

হিমাচলের ৬৮টি বিধানসভার মধ্যে কংগ্রেসের দখলে ৪০টি আসন এবং বিজেপি জিতেছে ২৫টিতে; ৩টি আসনে জিতেছে নির্দলীয় প্রার্থী।
হিমাচল নির্বাচনে বিজেপি ছয়জন নারী প্রার্থীকে ভোটে দাঁড় করিয়েছিল। কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন পাঁচজন নারী প্রার্থী। আম আদমি পার্টির হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিন জন। কিন্তু তাদের মধ্যে শুধু রীনা বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। পচ্ছাদ (এসসি) বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছেন রীনা।

২০২১ সালের হিমাচল উপনির্বাচনেও তিনি ওই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনগুলোতেও একই ধারা দেখা গিয়েছিল। কোনো নির্বাচনে দু’জন, তো কোনো নির্বাচনে তিনজন নারী প্রার্থী জিতেছিলেন।

২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র চার নারী প্রার্থী জয়ী হতে পেরেছিলেন। তবে সব থেকে শোচনীয় এ বছরের অবস্থা। অথচ বর্তমানে হিমাচলের মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশই নারী। প্রশ্ন উঠছে হিমাচলে নারী প্রার্থীদের কেন এত শোচনীয় অবস্থা?

যে সব হেভিওয়েট নারী প্রার্থী নির্বাচনে হেরেছেন, তারা হলেন কাংড়ার শাহপুরের চারবারের বিধায়ক তথা মন্ত্রী সারভিন চৌধুরি, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং ডালহৌসির ছয় বারের বিধায়ক আশা কুমারী, ইন্দোরার বিজেপি বিধায়ক রিতা ধীমান, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কৌল সিংয়ের মেয়ে চম্পা ঠাকুর। চম্পা দাঁড়িয়েছিলেন মান্ডি কেন্দ্র থেকে।

১৯৯৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে হিমাচলে নারী ভোটারদের ভোটদানের হার পুরুষদের তুলনায় বেশি। গত পাঁচটি নির্বাচনেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়নি। ১৯৯৮ সালে নারী ও পুরুষ ভোটারদের ভোটদানের হার ছিল ৭২.২ এবং ৭১.২৩ শতাংশ।

২০০৩ সালে ছিল ৭৫.৯২ এবং ৭৩.১৪ শতাংশ, ২০০৭-এ ৭৪.১০ এবং ৬৮. ৩৬ শতাংশ, ২০১২ সালে ছিল ৭৬.২০ এবং ৬৯.৩৯ শতাংশ, ২০১৭ সালে ছিল ৭৭.৯৮ এবং ৭০.৫৮ শতাংশ।

সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২০২২ সালের নির্বাচনে নারী ও পুরুষদের ভোটদানের হার যথাক্রমে ৭৬.৮ এবং ৭২.৪ শতাংশ।

নির্বাচনের আগে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয়েই নারীদের ক্ষমতায়নের দাবি তুলে সরব হয়েছিল। কিন্তু কোনো পক্ষই বেশি সংখ্যক নারীকে প্রার্থী করেনি। হিমাচলে নারীদের ক্ষমতায়নের দীর্ঘ দাবি থাকা সত্ত্বেও, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ১৯৬৭ সাল থেকে হওয়া ১৫টি বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৪৩ জন নারী বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন।

সূত্র: কালের কন্ঠ
আইএ/ ৯ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button