জাতীয়

অনুমতি মিললেও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেই বিএনপি নেতাকর্মীরা

ঢাকা, ০৯ ডিসেম্বর – ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) কমিশনার অনুমতি দিলেও নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেখা মেলেনি বিএনপি নেতাকর্মীদের। বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কার্যালয় খালি করেনি। তারা কার্যালয়ের গেটের মুখেই অবস্থান নেন সেসময়।

গত দুদিন নয়াপল্টনে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলটির কার্যালয় সংলগ্ন ফকিরাপুল-মতিঝিল এলাকাও ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের দখলে। শুধু বিএনপি কর্মী নন, এদিন সেখানে সাধারণ মানুষকেও ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।

এদিকে সমাবেশস্থল নিয়ে নানা জটিলতার অবসান ঘটাতে কমলাপুর স্টেডিয়ামে গণসমাবেশের অনুমতি চাইতে ৭টা ১০ মিনিটে বিএনপির প্রতিনিধিদল ডিএমপি সদরদপ্তরে প্রবেশ করেন। পরে তারা ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তারা।

তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বিএনপিকে মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজ মাঠে গণসমাবেশ করার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এরপর রাতেই ডিএমপির প্রতিনিধিদল ও বিএনপি নেতারা সম্ভাব্য দুটি ভেন্যু পরিদর্শন করেন।

রাতেই রাজধানীর কমলাপুর স্টেডিয়াম এবং মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠ পরিদর্শন শেষে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের জানান, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার কোথায় গণসমাবেশ করবে বিএনপি তা দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে রাত ৯টা ২০ মিনিটে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা দীর্ঘসময় পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। গতকালের (বুধবার) ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমাদের প্রথম দাবি ছিল,পার্টি অফিস খুলে দিতে হবে। তারা বলেছে, আপনারা পার্টি অফিসে যেতে পারেন কোনো অসুবিধা নেই।

অসুবিধা নেই জানার পরও পার্টি অফিসে নেতাকর্মীরা কেউ আসছে না কেন- জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপাসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, আগামীকাল (শুক্রবার) সকাল ১০টায় দলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্সসহ কিছু নেতাকর্মী কার্যালয়ে যাবেন।

রাতেই আসছেন না কেন জানতে চাইলে এর কোনো উত্তর দেননি তিনি।

তবে দলীয় সূত্রে জানা যায়, ডিএমপি কমিশনার আশ্বাস দিলেও তাতে খুব একটা ভরসা পাচ্ছেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা কারণ হিসেবে বলছেন, ‘অসুবিধা না থাকলে এখনো দলীয় কার্যালয়ের সামনে এত পুলিশ কেন?’ তাদের ধারণা, আরও ধরপাকড় হতে পারে।

এর আগে রাত সাড়ে ১০টায় শাহীন নামে বিএনপিকর্মী সন্দেহে একজনকে আটক করে পুলিশ। আটকের সময় তিনি বারবার বলতে থাকেন, ‘আমি রংমিস্ত্রি, আমি কোনো কর্মী না। আমি এদিক দিয়ে যাওয়ার সময় ছবি তুলছিলাম।’

তবে ডিবির কর্মকর্তা তার ফোন জব্দ করে বলেন, ‘ওনার ফোনে দেখা যাচ্ছে তিনি বিএনপির নিউজ প্রচার করছেন।’

এসময় তিনি শাহীন নামে ওই ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেন, ‘কি আছে সঙ্গে? বিস্ফোরক দ্রব্য?’

এ প্রশ্নের হেসে জবাব দেন শাহীন। বলেন, ‘না স্যার, কিচ্ছু নেই। আমি রংমিস্ত্রি।’

পরে পুলিশের ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে মনে হয় থানায় নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি শুধু ছবি তুলছিলাম।’

এর আগে সন্ধ্যা থেকেই বেশ কয়েকজনকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিএনপিকর্মী সন্দেহে আটক করে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাত ১১টা পর্যন্ত কার্যালয়ের সামনে পুলিশের অবস্থান রয়েছে। পাশেই প্রিজন ভ্যান, জলকামানসহ পুলিশের অন্যান্য সাজোয়া যান।

পুলিশকে তখন পর্যন্ত সতর্ক অবস্থায় দেখা যায়। সিনিয়র পুলিশ সদস্যরা সবাইকে নি-গার্ড পরে সতর্ক থাকতে বারবার আহ্বান করছিলেন। একই সঙ্গে কাকরাইল মোড় ও ফকিরাপুল মোড়েও পুলিশের অবস্থান দেখা যায়।

সূত্র: জাগোনিউজ
আইএ/ ০৯ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button