জাতীয়

জাতির এই দুর্দিনে নীরব ভূমিকা পালন করা কাফেরের কাজ হবে

ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর – জাতির এই দুর্দিনে নীরব ভূমিকা পালন করা কাফেরের কাজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

সরকারের উদ্দ্যেশে তিনি বলেন, সরকারের এহেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এদেশের জনগণ কখনো বরদাস্ত করবে না। বাংলাদেশে এখন ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের মতো অবস্থা বিরাজ করছে। আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করেন। নয়তো সামাজিক পরিস্থিতি কারো নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। তবে আজকের খেলা-খেলাভাব কয়েক দিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর বুধবারের বর্বরোচিত পুলিশি হামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এই বিবৃতি দেন ড. অলি আহমদ।

বিবৃতিতে এলডিপি প্রেসিডেন্ট বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশের সংবিধান অনুসারে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সরকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যাংক ডাকাতি, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বিচার বিভাগের বিপর্যয়,গণতন্ত্রের বিপর্যয় সর্বোপরি সামাজিক বিপর্যয়রোধ করার জন্য নিশিরাতের অবৈধ সরকারকে কিছু পরামর্শ দেয়ার জন্য একত্রিত হয়েছিলও। তাদের উপস্থিতি ছিলো সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কিন্তু হঠাৎ অযাচিতভাবে বিনা প্ররোচনায় পুলিশ এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগের গুন্ডারা প্রকাশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর গুলিবর্ষণ করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে তাদের গুন্ডা বাহিনী শত শত গাড়িতে আগুন লাগিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। তখন সুকৌশলে পুলিশের সাহায্যে সমস্ত দোষ বিএনপির উপরে চাপিয়ে দেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি কোনো বাস পোড়া বা সংঘর্ষে জড়িত ছিলো না।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিগত ৭ দিন যাবৎ পুলিশ বাহিনী হিটলারি কায়দায় ইসরায়েলের বর্বর বাহিনীর মতো বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা রুজু ও গ্রেপ্তার করেছে।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আল্লাহকে ভয় করেন। মিথ্যা বলা বন্ধ করেন। অন্যায় ও মিথ্যার আশ্রয় নেয়া বন্ধ করেন।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা দূর্গা পূজার সময় পাঠা ছাগলকে বিসর্জন দেয়। তখন পাঠি ছাগল তা দেখে হাসে, তখন পাঠা ছাগল তার জবাবে নাকি বলে- সামনে মনসা পূজা আছে, তুমিও সেটার জন্য তৈরি হও। মনসা পূজার সময় শুধু ছাগীকে ব্যবহার করা হয়।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, রাজনীতির নামে আজকের এই খেলা-খেলাভাব কয়েক দিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাবে। বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সারাদেশে যে স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করেছেন, পুরো বাংলাদেশে তা হয় তো বিশাল অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিতে পারে। কারণ এই বাংলাদেশ আমরাই স্বাধীন করেছি। কারো দয়া দাক্ষিণ্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয় নাই। জাতির এই দুর্দিনে নীরব ভূমিকা পালন করা কাফেরের কাজ হবে। দেশকে ভালবাসা ঈমানের অংশ। কর্ণেল অলি আরও বলেন, আশাকরি সরকারের যদি সৎ সাহস থাকে পেটুয়া বাহিনী এবং পুলিশকে বাদ দিয়ে রাস্তায় নামেন। বিরোধী দলগুলোর শক্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হন। বিএনপির যে সকল নেতাকর্মীকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে- তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের পরামর্শ দিচ্ছি। সরকারকে বলবো, আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করেন। গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসেন, অন্তবর্তিকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। নিরাপদে সরে পড়েন। অন্যথায় আপনাদের প্রজ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে আপনারাই নিপাতিত হবেন। এটা নিশ্চিত।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button