জাতীয়

তারকা মানের হোটেল থেকে কর: ডিএসসিসি পাচ্ছে, ডিএনসিসি পায় না

রাশেদুল হাসান

ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর – স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৮৪ নং ধারার ক্ষমতাবলে প্রণয়ন করা ‘আদর্শ কর তফসিল ২০১৬’ এর ৯ ধারা অনুযায়ী করপোরেশন এলাকার পাঁচ, চার ও তিন তারকা হোটেলে অবস্থানকারীদের কক্ষের ভাড়া থেকে তারকাভেদে ৩, ৪ ও ৫ ভাগ নগরকর হিসেবে পাবে সিটি করপোরেশন। কিন্তু ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন পাঁচ, চার ও তিন তারকা মানের হোটেল থেকে নগর কর পাচ্ছে না সিটি করপোরেশন।

রাজস্ব বিভাগের সূত্র জানিয়েছেন, ডিএনসিসির অধীনে কর আদায়যোগ্য ১২টি পাঁচ, চার ও তিন তারকা মানের হোটেল রয়েছে। হোটেলগুলো হলো ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, লা মেরিডিয়ান ঢাকা, ডরিন হোটেল, সিক্স সিজনস হোটেল লিমিটেড, হোটেল সারিনা, হোটেল সোনারগাঁও, দি ওয়েস্টিন, হোটেল সুইট ড্রিম, রেনেসান্স হোটেল, ম্যাপল লিফ হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টস, গ্র্যান্ড অ্যান্ড প্রিন্স হোটেল এবং ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড।

অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আওতাধীন রাজমনি ঈসাখাঁ, এশিয়া হোটেল রিসোর্ট, ফারস হোটেল এন্ড রিসোর্ট, হোটেল পূর্বানী ইন্টারন্যাশনাল ও হোটেল ৭১ লিমিটেড ২০১৯ সাল থেকেই নগর কর পরিশোধ করছে। আর এই সিটির অধীনে একমাত্র হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ নগর কর পরিশোধ করছেন না। বাকি সবাই তারকাভেদে পাঁচ, চার ও তিন ভাগ কর পরিশোধ করছেন।

ডিএনসিসির রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোটেলগুলোকে নগর কর পরিশোধে ৯ বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা এ কর পরিশোধ করছে না। ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম হোটেলগুলোকে নিয়ে কর আদায়ের বিষয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠকেও বসেছিলেন বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা তাদের নিয়ে বসছিলাম। তাদের এতো বেশি কর দেওয়ার ওপর আপত্তি আছে। তারা করোনাসহ বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে, এজন্য আমরা কমিয়ে দিয়েছি। এজন্য আমরা তারকা মানের হোটেলের জন্য ১ দশমকি ৫, চার তারকা মানের হোটেলের জন্য এক ভাগ ও তিন তারকা মানের হোটেলের জন্য শূন্য দশমিক ৭৫ ভাগ কর ধার্য করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনে সর্বোচ্চ পাঁচ, চার ও তিন ভাগ নেওয়ার কথা বলা আছে, তবে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করলে কমাতেও পারবে।’

বাংলা ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহসিনুল হক হিমেল বলেন, ‘আমরা এ আইনটা জানতাম না। যে কোনও আইন করার সময় সাধারণত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে করা হয়। কিন্তু এটা করার সময় আমাদের অবগত করা হয়নি। এখন আমরা জানলাম। এখন আমরা আমাদের অতিথিদের কাছ থেকে করের টাকা সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশনকে দেবো। আশা করি, সিটি করপোরেশন আমাদের এটা দেওয়ার জন্য শিগগিরই চিঠি দেবে।’

সিটি করপোরেশন থেকে ৯ বার চিঠি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের চিঠি আমাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত হয়তো পৌঁছেনি।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ০৮ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button