ফুটবল

মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টির ‘হোমওয়ার্ক’ করে নামছে স্পেন

দোহা, ০৬ ডিসেম্বর – কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে ২০১০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে মরক্কো।

বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের শুরটা স্বপ্নের মত করেছিল স্পেন। প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকাকে ৭ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল লুইস এনরিকের শীর্ষরা। পাসের ফুলঝুরিতে প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস ছুটিয়ে ছিল। তবে জার্মানির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্য়াচে এগিয়ে থেকেও ১-১ ড্র। সবচেয়ে বড় অস্বস্তি গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। এশিয়ান জায়ান্ট জাপানের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও ১-২ ব্যবধানে হার। যার জেরে জার্মানি জিতেও ছিঁটকে যায়। দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে স্পেন। গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটের যোগ্যতা অর্জন করেছিল জাপান।

অন্যদিকে, মরক্কো বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে গ্রুপ পর্যায় থেকে বিদায় করে চমকে দিয়েছে ফুটবলবিশ্বকে। কানাডাকে হারায়, ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় মরক্কো।

এদিকে, জাপান-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের মত যদি স্পেন-মরক্কো ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায় তার জন্যই বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন লুইস এনরিকে।

ইউরো কাপের পরিস্থিতিটা ভোলেননি স্পেনের কোচ লুইস এনরিকে। দু-বছর আগের কথা। অনবদ্য ফুটবলে ক্রমশ এগোচ্ছিল স্পেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতলেও সেমিফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হার। ট্রফির অনেকটা কাছে পৌঁছেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। এ বার নকআউটে তাই কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। তার প্রস্তুতিও সেরে রেখেছেন। ইউরোর পরই ছাত্রদের হোমওয়ার্ক দিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের নকআউটের আগে এক হাজার পেনাল্টি প্র্যাক্টিসের। মরক্কো ম্যাচের আগে পুরোটাই জানালেন স্পেনের কোচ লুইস এনরিকে। ছাত্ররা কি হোমওয়ার্ক সেরেছেন? ম্যাচে পরিস্থিতি এলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

মরক্কোর বিরুদ্ধে নামার আগে স্পেনের কোচ বলেন, এক বছর আগে শিবিরে সকলকে বলেছিলাম, বিশ্বকাপে আসার আগে অন্তত এক হাজার পেনাল্টি প্র্যাক্টিস করতে। আশা করি, ওরা হোমওয়ার্ক করেছে। পেনাল্টি থেকে গোল করা কোনও লটারি নয়। বরং এর জন্য দক্ষতা এবং প্র্য়াক্টিস প্রয়োজন। স্নায়ুর চাপ সামলে টাইব্রেকারে শট নেওয়া সহজ নয়।

মরক্কোর উইং ব্যাক আশরাফ হাকিমি মনে করছেন, এ বারের বিশ্বকাপে আরও একটা অঘটনের জন্য় প্রস্তুত মরক্কো। ২৪ বছরের এই ফুটবলারের জন্ম মাদ্রিদে। হয়তো প্রতিপক্ষ দেশের হয়েই বিশ্বকাপ খেলতেন! স্পেনের যুব দলেও খেলেছেন। জন্মভূমির বিপক্ষে নামার আগে আশরাফ বলছেন, দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা দারুণ অনুভূতি। আমরা ইতিহাস গড়তে চলেছি। দলগত ফুটবল খেলছি।

গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে স্পেনের কাছে হেরেছিল মরক্কো। চার বছরে অভিজ্ঞতা বেড়েছে, দক্ষতাও। এ বার অনেক পরিণত হয়েই নামছেন, এমনটাই দাবি হাকিমির।

পরিসংখ্যান

মরক্কো ও স্পেন বিশ্বকাপসহ সকল পর্যায়ে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে দুই জয় ছিল স্পেনের, অপর ম্যাচটি হয়েছিল ড্র। আজ রাত মরক্কো ও স্পেনের ম্যাচ টানা দুই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ম্যাচ। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে দল দু’টি পরস্পরের বিপক্ষে খেলেছিল গ্রুপ পর্যায়ে, যেখানে ম্যাচ ড্র হয়েছিল ২-২ গোলে।

এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে।

স্পেনের সম্ভাব্য একাদশ

উনাই সাইমন (গোলরক্ষক), কারভাহাল, লাপোর্তে, আলবা, রদ্রি, পেদ্রি, বুসকেতস, গাভি, মোরাতা, অলমো, তোরেস।

মরক্কোর সম্ভাব্য একাদশ

ইয়াসিন বুনো (গোলরক্ষক), আগুয়ের্ড, হাকিমি, সাইস, মাজরাউই, আমরাবাত, সাবিরি, ওনাহি, বোফাল, ইউসেফ এন-নেসিরি, জিয়েশ।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button