জাতীয়

কাতার থেকে অভিযোগ, শাহজালালে ধরা

চৌধুরী আকবর হোসেন

ঢাকা, ০৪ ডিসেম্বর – কাতার থেকে প্রবাসী মাসুম মোহাম্মদ হাবিব অনলাইনে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশকে অভিযোগ করেন যে, দুই কন্যাসহ তার স্ত্রী শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন। তারা কাতারগামী ফ্লাইটের উঠেছেন। তবে তাদের কাছ থেকে বিমানবন্দরের কোনও এককর্মী ৬ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। কিন্তু ফ্লাইটে উঠে পড়ায় কাতার প্রবাসী মাসুম মোহাম্মদ হাবিবের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। তবে কাতার থেকে ফ্লাইট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য দেন হাবিব। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ধরা পড়লেন ‘এয়ারপোর্ট হেল্প সার্ভিস’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী। যাত্রীর কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট।

জানা গেছে, শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে দুই কন্যাশিশু নিয়ে কাতার প্রবাসী মাসুম মোহাম্মদ হাবিবের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আসেন। তারা কাতার যাবেন। শিশুদের নিয়ে লাগেজ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে, তাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এয়ারপোর্ট হেল্প সার্ভিস থেকে নিয়েছেন অ্যাসিসট্যান্স সার্ভিস। সুমাইয়া আক্তারে সঙ্গে তিনটি কার্টন ছিল। দুটিতে ছিল জামাকাপড় এবং অন্যটিতে বাচ্চাদের খাবার ও ফ্রুজেন ফুড। এয়ারপোর্ট হেল্প সার্ভিসের কর্মী সুমাইয়া আক্তারকে জানালেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে কাতার নতুন নিয়ম করেছে। সব ধরনের খাবার আইটেম বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই কর্মী সুমাইয়াকে কার্টন থেকে সব খাবার নামিয়ে রাখতে বলেন। যদিও কিছু সময় পর ওই কর্মী প্রস্তাব করেন— তাকে টাকা দিলে তিনি খাবারের কার্টনসহ ফ্লাইটে ওটার ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। পরে খাবারগুলো সঙ্গে নিয়ে সুমাইয়া সেই কর্মীর প্রস্তাবে রাজি হয়ে এক হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তবে কর্মীটি আরও টাকা দাবি করেন। পরে সুমাইয়া আক্তার তার কাছে থাকা ২৫০০ টাকা এবং কাতারের ১০০ রিয়াল (৩০৬০ টাকা) ওই কর্মীর হাতে তুলে দেন।

জানো গেছে, কাতার থেকে প্রবাসী মাসুম মোহাম্মদ হাবিবের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে অভিযানে নামে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ। যাত্রীদের ছবি দেখে বিমানবন্দরের সিসি ক্যামেরার রেকর্ডে তাদের শনাক্ত করা হয়। সে অনুযায়ী আটক করা হয় এয়ারপোর্ট হেল্প সার্ভিসের অভিযুক্ত কর্মী সোহেল রানাকে। পরে বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সোপর্দ করা হলে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কাতার থেকে প্রবাসী মাসুম মোহাম্মদ হাবিব বলেন, ‘আমার স্ত্রী বাচ্চাদের নিয়ে একা একা ভ্রমণ করছিলেন বলে আমি শঙ্কিত ছিলাম, কোনও সমস্যা হয় কিনা। আমার স্ত্রী যখন জানালেন যে, তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তখন খুব হতাশ হয়ে পড়ি। আমি ভেবেছিলাম কোনও কিছু হবে না। তারপরও এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। আমি অভিভূত যে, বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ আমার অভিযোগের ভিত্তিকে এ ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। বিমানবন্দরের সার্ভিস ভালো রাখার জন্য আর্মড ‍পুলিশের প্রচেষ্টায় আমি খুশি।’

বিমানবন্দর আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল— আমরা যাত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। যখন প্রবাসী মাসুম মোহাম্মদ হাবিব অভিযোগ জানালেন, ততক্ষণে তার স্ত্রী ফ্লাইটে উঠে গেছেন। আর হাবিব অভিযোগ জানালেও কারা টাকা নিয়েছে, কখন, কোথায় নিয়েছে— সে তথ্য জানাতে পারেননি। তবে তার স্ত্রী, কন্যাদের ছবি, ফ্লাইটের তথ্যের ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট হেল্প সার্ভিসের অভিযুক্ত কর্মী সোহেল রানাকে আটক করা হয়। তাকে তল্লাশি করে কাতারের ১০০ রিয়াল এবং টাকা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও স্বীকার করেন টাকা নেওয়ার কথা। এরপর তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button