ইউরোপ

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল চায় কিয়েভ

কিয়েভ, ০১ ডিসেম্বর – ইউক্রেনে নৃশংসতায় রুশ সেনা ও মস্কোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কিয়েভের জোরালো আবেদনের পর ইউরোপীয় কমিশনও একই প্রস্তাব করেছে। আলোচনা হচ্ছে নানা ফোরামে, যা পশ্চিমা শীর্ষ নেতাদের সমর্থনের প্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে জাতিসংঘ সমর্থিত এ ধরনের কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠনে বেশ কিছু পদ্ধতিগত বাধা পেরোতে হয়। এতে বিশ্বনেতাদের সমর্থন আদায়ও জরুরি। সেই সমর্থন আদায়ে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। খবর নিউইয়র্ক টাইমসের।

কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেইন গতকাল বুধবার বলেছেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের অপরাধের তদন্ত ও বিচারের জন্য তাঁরা বিশেষ আদালতের জন্য বিশ্বসম্প্রদায়ের সমর্থন পেতে দ্রুতই কাজ শুরু করতে চান। এর আগে গত মঙ্গলবার নিয়মিত ভাষণে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই দিন জার্মানির বার্লিনে ইউরোপীয় সাত দেশের বিচারমন্ত্রীরা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের কাছে আবেদনটি করেন।
তদন্তকারীরা যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংগ্রহে রেখেছেন। এর মধ্যে গত মার্চে কিয়েভ শহরের পার্শ্ববর্তী বুচা এলাকায় বেসামরিক লোকদের হত্যাকাণ্ড রয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে রুশ বাহিনী পিছু হটার পর একাধিক গণকবর ও নির্যাতন কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। যদিও, রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে ক্রেমলিন। সম্প্রতি আত্মসমর্পণের পর বেশ কয়েকজন রুশ সেনার মৃত্যুকে ঘিরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধেও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছে মস্কো। ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়ে বিচার শুরু হলে, তা শেষ হতে লেগে যেতে পারে কয়েক বছর।

এদিকে, গত সেপ্টেম্বরে পিছু হটলেও এখন আবারও দোনেৎস্ক, লুহানস্কের দোনবাস অঞ্চল ও খারকিভে আক্রমণ করছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সামনের পরিস্থিতি কঠিন। বড় ক্ষয়ক্ষতির পরও রুশ বাহিনী আবারও এগোতে চাচ্ছে। তারা দক্ষিণে কিছু পরিকল্পনা করছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছেন, তাঁর বাহিনী পূর্ব দোনবাস অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়টি রুশ আক্রমণ প্রতিহত করেছে। রুশ আর্টিলারি ডিনিপ্রো নদীর ডান তীরে এবং দক্ষিণে খেরসন শহরে ফের টানা গোলাবর্ষণ করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে সামরিকভাবে পরাজিত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই তিনি এখন বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাচ্ছেন। মঙ্গলবার রোমানিয়ার বুখারেস্টে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠকে তাঁরা মিলিত হন। এ সময় ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, মস্কো শীতের আবহাওয়াকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ আক্রমণ মোকাবিলা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উত্তরণে ইউক্রেনকে সহায়তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। রাশিয়ার প্রতিবেশী মলদোভা, জর্জিয়া ও বসনিয়াও ইউক্রেনের মতো চাপে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ন্যাটো মহাসচিব।

ইউক্রেন জানিয়েছে, রুশ সেনাদের আত্মসমর্পণের জন্য তৈরি করা একটি হটলাইন নম্বরে প্রতিদিন অন্তত ১০০ জন সেনা যোগাযোগ করছে। গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া ওই প্রকল্পটির নাম ‘আমি বাঁচতে চাই’। কিয়েভের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই হটলাইনের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সৈন্য ও তাদের পরিবারের সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি লোক যোগাযোগ করেছে। সম্প্রতি পুতিনের আংশিক সেনা সমাবেশ ও খেরসন থেকে রুশ বাহিনী পিছু হটার পর হটলাইনে যোগাযোগ বেড়েছে।

সূত্র: সমকাল
আইএ/ ০১ ডিসেম্বর ২০২২

Back to top button