ফুটবল

দেশে ফিরলে জেল হতে পারে ইরানি ফুটবলারদের

দোহা, ৩০ নভেম্বর – বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত গাননি দেশটির ফুটবলাররা। সেজন্য দেশে ফেরার পর ইরানি ফুটবলাররা ভয়ানক পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী জেলে যেতে হতে পারে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়া ইরানের ফুটবলারদের।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হারের পর বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ইরানের। এই ম্যাচে জয় পেলে শেষ ষোলোতে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তাদের। তবে সেই ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা। ম্যাচের আগে ইরানের ফুটবলারদের উপর বাড়তি চাপ ছিল বলে জানা গেছে। জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় তাদের পাশাপাশি ফুটবলারদের পরিবারের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ আসছিল বলে জানানো হয়েছে। বাড়তি চাপ নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন ইরানের ফুটবলারা। সেই বাড়তি চাপ সামলেই খেলতে হয়েছে তাদের। মানসিকভাবে ভালো না থাকায় মাঠের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়েছে ইরানের।

এরপরও দলের খেলোয়াড়রা যে ধরনের পারফরম্যান্স করেছে তাতে সন্তুষ্ট দলের কোচ কার্লোস কুইরোজ। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই দলের ছেলেদের ওপর নানান ধরনের চাপ আসছিল। তারা সেই চাপ মাথায় নিয়েই নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করছে। প্রথম ম্যাচে তাদের জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার বিষয়ে ইরানের ভক্তরাও একমত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ’

গত ২১ নভেম্বর খালিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো শুরুর পর ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই নীরব ছিলেন। এমন কাণ্ডের পর দেশে ফিরে গেলে তারা জেলে যেতে পারে।

নৈতিক পুলিশের হেফাজতে ইরানে মাশা আমিনি নামের এক যুবতীর মৃত্যুর কারণে দেশব্যাপী দুই মাসেরও বেশি বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনের অংশ হিসেবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া থেকে বিরত থাকেন ইরানি ফুটবলাররা।

ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র মাসুদ সেতায়েশি মাত্র কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, যারা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া থেকে বিরত থাকবেন, তাদের শাস্তি দেয়া যেতে পারে। রাজনৈতিক ভিন্নমত ইরানে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। গত সেপ্টেম্বর থেকে চলতে থাকা বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য ইতোমধ্যে ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া বিক্ষোভে ১৫ হাজারের বেশি লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, মাত্র দশ দিন আগে এক ইরানি ধর্মগুরু নামাজের সময় অ্যাথলেটদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, যারা জাতীয় সঙ্গীতের অসম্মান করবে, তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

কঠোর ইসলামিক ড্রেস কোড লঙ্ঘন করার জন্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর কারণে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানে। কয়েক ডজন ইরানি জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াবিদ এবং শিল্পী প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

সূত্র: বাংলানিউজ
আইএ/ ৩০ নভেম্বর ২০২২

Back to top button